সারিয়াকান্দিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহারী ঢলের পানিতে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৪দিন আগে থেকে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে যমুনার পানি মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড,কৃষি অফিস ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় ক্রমেয় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় যমুনা অববাহিকার চরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরো অবোনতি হতে পারে বলে আসঙ্কা করা হয়েছে।সূত্রগুলো বলেন, বন্যায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে এ পর্যন্ত ৭টি ইউনিয়ন আংশিক বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৯৫০০ পরিবারের কমপক্ষে ৩৮ হাজার মানুষ বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন রকমের ফসল আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৯০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ৬৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান, ৭ হেক্টর জমির শাক-সবজি, ১০ হেক্টর জমির মাসকালাই ও স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধানের চারা বীজতলা ৮ হেক্টর জমি বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে।
কাজলা ইউনিয়নের ময়ূরের চরের বাসিন্দা শাহিন আলম বলেন, পানিতো এখনো বাড়ছেই। তবে উঁচু বাড়ি ঘরে পানি ঢোকেনি। অপেক্ষাকৃত নিচু চরের কিছু বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে।
কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান আলী রনি বলেন, আমার ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম বাঁধের পূর্ব পার্শ্বে হওয়ায় সেগুলো গ্রামে যমুনা নদীর বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ধলিরকান্দি গ্রাম। এই গ্রামের সবকটি গ্রামীন রাস্তা, ব্রীজ, কালভার্ট বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। ঘরে ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে বলা যায়। তবে আজ পর্যন্ত কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।
চালুয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ৪ হাজার ৪৬৬ পরিবারের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার পরিবার। আমার ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ মোট লোক সংখ্যা হলো প্রায় ১২ হাজার। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ চরে গ্রাম হলো ফাজিলপুর, চর দলিকা, বিরামের পাঁচগাছী, হাটবাড়ী ও শিমুলতাইড়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ত্রাণ কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ৪৬ মেঃ টনঃ জিআর চাল বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করেছি, আরো বিতরণ করা হবে।