বেশি বেশি-মাছ চাষ করি বেকারত্ব দুর করি এই স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে রংপুরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা হয়েছে। শনিবার দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে রংপুরের সাংবাদিদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রংপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ মাছ চাষে পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। মৎস্য উৎপাদনে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণ। মৎস্য খাতে এ সাফল্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মৎস্য সেক্টরের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করেন। যার ফলশরুতিতে মৎস্য খাতে বাংলাদেশের সাফল্য আজ দেশের প-ি পেরিয়ে বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আজ বিশ্বপরিম-লে স্বীকৃত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ৩য় স্থান ধরে রেখে বিগত ১০ বছরে স্বাদু পানির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির হারে ২য় স্থানে উন্নীত হয়েছে। বন্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম স্থানে।
তিনি আরও বলেন, ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১ম তেলাপিয়া উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৪র্থ এবং এশিয়ার মধ্যে ৩য় স্থান অধিকার করেছে। তিনি আরও জানান, রংপুর জেলায় ২০১০ সালে মাছের উৎপাদন ছিলো ১৭ হাজার ৬৮৫ মেট্রিক টন। মৎস্য উন্নয়ন অধিদপ্তর রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করায় এখানকার মাটির পানি ধারন ক্ষমতা কম থাকা সহ মৎস্যচাষে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্বে¦ও ১১ বছরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৬২ হাজার ৬৯ মেট্রিক টন। যদিও জেলায় বাৎসরিক মাছের চাহিদা হচ্ছে ৬৩ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন। আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুত জেলায় মাছের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে রংপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুব রহমান, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পি, দপ্তর সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিনারা হাফিজা ফেরদৌসসহ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।