খুলনা মহানগরী ও জেলায় রাসায়নিক দ্রব্য কার্বাইড ব্যবহার করে মৌসুমী ফল পাকানো হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁচা তরি-তরকারিতেও মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য। আর এসব খেয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে।
সূত্র থেকে জানা যায়, ভারতীয় কেমিক্যাল কার্বাইড প্রয়োগ করে আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে পাকানো হয়। ফলের ঝুড়ির মাঝে কাগজে কার্বাইড মুড়িয়ে রেখে দেওয়া হয়। কার্বাইডের গ্যাসে ঝুঁড়ির আম পেকে যায়। ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এ পদ্ধতি গ্রহন করা হচ্ছে।
এদিকে ক্ষেত থেকে উঠানো কুমড়া, পটল, করলা, বরবটি, শসাসহ প্রায় সব ধরণের তরিতরকারিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে ফরমালিন নামক কেমিক্যাল।এই কেমিক্যাল প্রয়োগ করার ফলে বেশ কিছু দিন তরিতরকারি তাজা থাকে এবং পচন ধরে না।
দেশের দক্ষিণ -উত্তরাঞ্চলের কতিপয় অসাধু পাইকারি ব্যবসায়ী ট্রাক ভর্তি করে এই সমস্ত ফল ও তরিতরকারী খুলনা মহানগরী ও জেলায় সরবরাহ করছে। মালামাল সরবরাহের পূর্বে বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রয়োগ করা হয়।
উল্লেখিত ফল নগরীর দৌলতপুর, খালিশপুরসহ নগরীর বড় বড় আড়তে এবং জেলার বিভিন্ন বড় বড় হাটে বিক্রি হচ্ছে। এই সমস্ত ফলের রং নজর কেড়ে নেয় ক্রেতাদের। ফলগুলো দেখতে যেন মাকাম ফল।কিন্তু কোন স্বাদ নেই। নগরীর স্টেশন রোড কদমতলার আমের আড়ৎদার মনির হোসেন মৌসুমী ফলে কার্বাইড ব্যবহার সম্পর্কে বলেন, এসব ফলের রং খুব আকর্ষনীয় হয়। হলুদ রং হয়। ক্রেতারা এসব ফলের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। আসলে এ ফলে কোন স্বাদ নেই।
চিকিৎসকদের মতে কার্বাইড ও ফরমালিন খুবই বিষাক্ত। এটি মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। শিশুরা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোগীরা এই ফল খেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে অনেকের। এই ফল খেয়ে বদ হজম, হৃদরোগ ও মরণ ব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।