দিনাজপুরে মা-ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সিআইডি’র রংপুর কার্যালয়ের এএসপি, এএসআইসহ ১০জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের ডিবি পুলিশের ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলা হস্তান্তরের আদেশ হয়েছে।
ডিবি পুলিশের ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামলায় সিআইডির রংপুর অফিসের এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসান উল ফারুক, মাইক্রোবাস চালক হাবিব, নিমনগর বালুবাড়ী এলাকার এনামুল হকের ছেলে ফসিহউল আলম পলাশসহ ১০জনের নাম রয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
গত বুধবার বিকালে এ ঘটনার শিকার চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের গাদুশাপাড়ার লুৎফর রহমানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ওই মামলাটি করেন।
এর আগে দিনাজপুরে মা-ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সময় সিআইডির এএসপিসহ ৫জনকে আটক করে পুলিশ। বুধবার বিকালে চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজেষ্ট্রেটের আদালতে তাদের নিয়ে সিনিয়র জুডিশিয়ার ম্যাজিষ্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে তোলা হলে আদালত ৫জনকে জেলা কারাগারে প্রেরন নির্দেশ দেয়। পরে সন্ধ্যায় ৫জনকে জেলহাজতে নিয়ে যওয়া হয়।
এছাড়াও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে অপহৃতা জোহরা বেগম ও জাহাঙ্গীর আলম এর জবানবন্দী ১৬৪ করা হয়েছে।
বিকেল মা-ছেলেসহ আটককৃতরা দিনাজপুর ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়। এ ব্যাপারে রংপুর সিআইডির ও চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা সুব্রত কুমারের সাথে কথা বললে সত্যতা স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে রংপুর সিআইডির কাছে পলাশ নামের এক ব্যক্তি চিরিরবন্দর উপজেলার লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার প্রতারণার অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টায় লুৎফরের বাড়িতে যান এএসপি সারোয়ার কবিরসহ তিনজন। লুৎফরকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মুক্তিপণ দাবি করেন। তারা পরিবারের লোকজনকে ফোন করে ১৫লাখ টাকা দাবি করেন। পরে এ ঘটনায় থানা পুলিশের কাছে যান ভুক্তভোগীর স্বজনরা। একপর্যায়ে মঙ্গলবার বিকালে ভুক্তভোগীর স্বজনরা সাড়ে ৮ লাখ টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। তারা প্রথমে রানীরবন্দর আসতে বলেন। সেখানে আসলে তাদেরকে টাকিা নিয়ে দিনাজপুর সদরের দশমাইল আসতে বলা হয়। আবার দশমাইল আসলে সদরের বাশেরহাট আসতে বলে। পরে বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সদরের দশমাইল এলাকায় জনতা সন্দেহ হলে মাইক্রোবাসটি আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে দিনাজপুর জেলা পুলিশ ও সিআইডি মিলে সদরের বাশেরহাট থেকে তাদেরকে আটক করে। পরে জানা যায় অপহরনকারীরা পুলিশের সিআইডির কর্মকর্তা। আটকের পর প্রথমে চিরিরবন্দর পরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।