দিঘলিয়া ও তেরোখাদা উপজেলার ভৈরব ও আতাই নদীর পাড় দখল করে ইট ভাঁটা তৈরি। নদী দখল করে ও নদীর পাড় কেটে জোয়ারের পানি ঢুকিয়ে পলিমাটি ও বালি উত্তোলন, নদী ভাঙ্গনে নদী পাড়ের বসতবাড়ি, গাছ-পালা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী ও সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলা জনপদটা ভৈরব, আতাই ও আঠারো বেঁকি নদী দ্বারা খুলনা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত একটা দ্বীপাঞ্চল জনপদ। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলে এলাকাবাসীকে ভাবিয়ে তোলে নদীগুলোর প্রবল জোয়ার- ভাটার নদীর ¯্রােত ও নদী ভাঙ্গন। ভৈরব নদী ভাঙ্গনে সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা, বরইতলা এলাকা, দিঘলিয়া ইউনিয়নের মুনছুর সাহেবের গুদাম এলাকা, দেয়াড়া স্টিমার ও জলিল খানের গুদাম এলাকা, নগরঘাট এলাকা, বারাকপুরের ঘোষগাতি ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা প্রতি বছর বসতবাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ গাছ -পালার ক্ষতি সাধন হচ্ছে। উপজেলার মানচিত্র পালটে দিচ্ছে এই নদী ভাঙ্গন।
এদিকে আতাই নদী ভাঙ্গনে দিঘলিয়ার ও তেরোখাদার প্রত্যন্তাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে ও হচ্ছে প্রতিবছর। বিভিন্ন ইট ভাঁটা নানা ভাবে এ নদী ভাঙ্গনকে আরো জোরালো ও তরান্বিত করছে। মজলিশ খানের কেবিএম নামক ইট ভাটা(খান ব্রিকস, খুলনার পারভেজ নামক জনৈক ব্যক্তির সান ব্রিকস, জুলু চেয়ারম্যানের রাজ ব্রিকস, মোল্লা জালাল উদ্দিনের বিবিসি নামক ব্রিকস, মজলিশ খানের অপর ইট ভাঁটা কেবিসি ইট ভাঁটা গুলো ওই আতাই নদী তীরে গড়ে তুলেছে ইট ভাটা
এ সকল ইট ভাঁটা গুলো নানা প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে নদী ও নদীর পাড় দখল করে ভাটার অবস্থান তৈরি করেছে। সারা বছর মাটি ও বালু কাটার কারণে নদী ভাঙ্গন দিনে দিনে প্রবল হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাজীগ্রাম, বাতিভিটা, মোকামপুর, কামারগাতী,মমিনপুর,আড়ুয়া, হাজীগ্রাম বালিয়াঘাট ও তার পূর্ব পাড় বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বাতিভিটা ভেঙ্গেছে ও ভাঙ্গছে। বালিয়াঘাটের পূর্বপাড় বর্তমানে হুমকির মধ্যে। পাকা রাস্তা ও আতাই নদী প্রবল জোয়ারে একাকার হয়ে পড়ছে। ইটের ভাঁটা কর্তৃপক্ষ নদীর পাড় কেটে ইট ভাটায় জোয়ারের পানি ঢুকিয়ে পলিমাটি আটকানোর জন্য নদীর পাড় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোন কোন ইটের ভাঁটা নদীর মাঝে ঢুকে পড়েছে। এক সূত্রে জানা গেছে নড়াইল, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, তেরোখাদা, গাজীরহাটের হাজার হাজার লোক মোটরসাইকেলসহ মালামাল নিয়ে পারাপার হয় এই ঘাট দিয়ে। মূল রাস্তা থেকে নদীর ঘাট পর্যন্ত ৩০০ মিটার রাস্তাটা দুইটা ইট ভাটার মাঝ র রাস্তাটি প্রবল জোয়ারের পানির চাপে ভেঙ্গে গিয়ে পারাপার যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হলেও ইট ভাটার মালিকরা এগিয়ে আসেনা রাস্তা মেরামতের কাজে। মাঝিরা তাদের মাথার ঘাম ঝরানো টাকা ব্যয় করে প্রতিবছর রাস্তাটি মেরামত করতে হয়। মাঝিদের সূত্রে জানা যায় এ বছর রাস্তা ৪/৫ জায়গায় ভেঙ্গে যায়। যাত্রীদের সমস্যার দিকে তাকিয়ে মাঝিরা প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় করে রাস্তা মেরামত করেছেন মাঝিরা। অপর এক সূত্রে জানা গেছে, ইট ভাঁটা মালিকেরা প্রতিবছর ইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত মাটি ও বালি আমদানি না করে অবৈধভাবে নদীর পাড় দখলে নিয়ে ও পাড় কেটে জোয়ারের পানি ঢুকিয়ে পলি জমিয়ে মাটি সংগ্রহ ও নদী থেকে বালি সংগ্রহ করে ইট কাটা ও ভাঁটা চালানোর কারণে নদী ভাঙ্গন দিন দিন বেড়ে চলেছে। ইটের ভাটার এসকল দখলদরী, মাটি ও বালু কাটা, নদীর পাড় কাটার ব্যাপারে দিঘলিয়া উপজেলা আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা জেলা পরিষদ সদস্য মোল্লা আকরাম হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওশা প্রয়োজন। তিনি একমত পোষন করে বলেন, এ সকল ইট ভাঁটা মালিকগণ অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে, নদীর পাড় ও নদী দখল করে বছরের পর বছর মাটি কেটে প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষভাবে নদী ভাঙ্গনকে তরান্বিত করছে। এদের বিরুদ্ধে সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক আইনানুগ তড়িত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আতাই নদী ভাঙ্গন এবং নদী পাড় কেটে জোয়ারের পানি ঢুকিয়ে নদী ভাঙ্গন বহুলাংশে তরান্বিত করছে ইট ভাঁটা মালিকগণ এমনি অভিমতের ব্যাপারে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম এ প্রতিবেদককে জানান, নদী ভাঙ্গনের ব্যাপরে সবাই উদ্বিগ্ন। শুধুই ইট ভাটার কারণে ভাঙ্গছে এমন নয়। পানির গভীরতা এখানে বেশী। দিঘলিয়ায় একটা ভাঁটা সচল আছে। নদীর ওপরের ইট ভাটার সৃষ্ট সমস্যার সমাধান তেরোখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখবে। তিনি সমস্যাগুলো তাঁকে জানানোর জন্য বলেন। তিনিও জানাবেন বলে জানান।