সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনীবুর রহমানকে প্রত্যাহারপূর্বক পুরো ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন বরিশাল বিভাগের পৌর মেয়র ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ। এ ছাড়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারী বাসভবনের তিন ঘন্টার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি করা হয়।
সু-সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে ॥ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গৌরনদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী বলেন, গত ১৮ আগস্ট রাতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। এতে জনপ্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনের সু-সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। তাই এ বিবৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসনের বিপক্ষে নই বা তাদের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। মুনীবুর রহমানের মতো স্বেচ্ছাচারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মতো সবাই যে খারাপ, তাও বলছি না।
আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনীবুর রহমান কলাপাড়া উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের মুখে তিনি কলাপাড়া থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি কলাপাড়ার মতো আচরণ করছেন।
বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, শোকাবহ আগষ্টের মর্যাদা রক্ষায় ইউএনও’র নিন্দনীয় ঘটনার কোনো প্রতিবাদ বা বিক্ষোভে যাইনি। আমরা স্বেচ্ছাচারী নির্বাহী অফিসারের অপসারনের দাবি জানাচ্ছি।
জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও গৌরনদী পৌরসভার মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান বলেন, আমরা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলা প্রত্যাহারসহ পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের দাবি আদায় না হলে আগস্ট মাস শেষ হলেই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, ওই রাতে ইউএনও’র বাসভবনে কেউ হামলা করেনি। সেদিন (১৮ আগষ্ট) রাতে বিভাগীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় আমিও তাদের সাথে ছিলাম। হামলা হলে ইউএনও’র বাসভবনের একটি জানালার গ্লাসও ভাঙতো না? আবার যে গেট ভাঙার কথা বলা হচ্ছে সেটি কোথায়? সব গেটইতো ঠিকই দেখেছি। কোন এক বিশেষ মহলের মদদে ইউএনও নিজেই নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন।