জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম এবং যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের তিনবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম অ্যাড. খাঁন টিপু সুলতানের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মরহুমের পৌরশহরের বাসভবনে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মণিরামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অরবিন্দু হাজরার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য প্রভাষক মোঃ ফারুক হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য নাজমা খানম, সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসেম আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মিকাইল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর গৌর কুমার ঘোষ, চালুয়াহাটী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মিলন, আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম, তরুন আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সন্দীপ ঘোষ, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মিল্টন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রোহিতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদ আহাদুল ইসলাম, খানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, আওয়মী লীগ নেতা আবুল বাশার, সিরাজুল ইসলাম, শ্রমীক লীগ নেতা বিল্লাল হোসেন, কাউন্সিলর বাবুল আকতার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সঞ্জয় কুমার রায়, মাহাবুর রহমান, সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাত হোসেন প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাওঃ হাবিবুর রহমান।
বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ মরহুম খান টিপু সুলতান গত ২০১৭ সালের ১৯ আগস্ট রাত ৯টার সময় ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৯৪৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।
মরহুম খান টিপু সুলতানের বড় ছেলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং বাংলাদেশ যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য তরুন নেতা হুমায়ুন সুলতান সা’দাব মুঠো ফোনে বলেন, তাঁর বাবা মৃত্যুর পূর্বে ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইন পেশায় জড়িত ছিলেন। এর আগে তিনি ১৯৬৭ সালে যশোর জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক, ১৯৬৯ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা চলাকালিন এফ এফ কমান্ডারের দায়িত্বসহ ৮নং সেক্টরে গণসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন, ১৯৭১ সালে ২০ মার্চ জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, ১৯৭৩ সালে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ১৯৭৯ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক, ১৯৯৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসন থেকে তাঁর বাবা পাঁচবার নৌকা প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য বর্ণাঢ্য এ রাজনীতিবিদ তাঁর জন্মস্থান ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন।