রাজশাহীর বাগমারার বিলসতি বিলের দ্বীপপুর এলাকায় প্রভাবশালীদের বাধার কারণে স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না। জেলেদের জালসহ মাছ ধরার উপকরণ পুড়িয়ে দিচ্ছেন প্রভাবশালীরা। ভরা মৌসুমে মাছ ধরতে না পারার কারণে জেলেরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বুধবার দুপুরে বাগমারা প্রেসক্লাবে এসে উপজেলার দ্বীপপুর গ্রামের ১০-১২ মৎস্যজীবি তাঁদের অভিযোগ ও দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন। তাঁদের জেলেদের অভিযোগ, তাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে বর্ষা মৌসুমে বিলসতি বিলে মাছ ধরে থাকেন। বিলসতি বিলে বেশ কিছু সরকারি জমি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ওইসব জমিতে পানিবদ্ধ থাকায় সেখানে মাছ ধরে থাকেন। বিলে মাছ ধরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এজন্য প্রতিবছর বর্ষার শুরুর আগে জাল, দড়ি, নৌকাসহ মাছ ধরার উপকরণ ঋণ নিয়ে কিনে থাকেন। এবছরও অর্ধশত জেলে মাছ ধরার উপকরণ প্রস্তুত করেছেন। তাঁরা মাছ ধরার প্রস্তুতিও নিয়েছেন।
সপ্তাহ খানেক আগে কয়েকজন মৎস্যজীবি দ্বীপপুর এলাকায় বিলসতি বিলে মাছ ধরার উপকরণ নিয়ে নামেন। এ সময় স্থানীয় প্রভাবশালী শহিদুল ইসলাম, জমিন উদ্দিন, মনিরুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁদের মাছ ধরতে বাধা প্রদান করেন। এঁরা স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি ও বিলসতি বিল মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি লোক হিসাবে পরিচিত। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জেলেদের মারপিট করে তাঁদের মাছ ধরার উপকরণ কেড়ে নিয়ে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন। কয়েক দফা জেলেদের জাল দড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এই বিষয়ে জেলেদের পক্ষে কফের আলী বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে ও পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের তদন্তকারী থানার উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জালদড়ি পুড়িয়ে ফেলা নয়, সেগুলো ক্ষতি করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিলসতি বিল মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি অমূল্য হাওলাদার দাবি করেছেন, বিলটি তাঁরা ইজারা নিয়ে মৎস্যচাষ করছেন। কিছু জেলে সেখানে মাছ ধরলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাফর আলীসহ ২০-২৫জন মৎস্যজীবি অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালীদের হুমকী ও বাধার কারণে তাঁরা মাছ ধরতে পারছেন না। তাঁদের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে বলে জানান। এ কারণে বেকার হয়ে পড়েছেন বলে জানান। আবদুর রাজ্জাক নামের আরেক মৎস্যজীবি অভিযোগ করেন, এলাকার শতাধিক কার্ডধারী মৎস্যজীবিরা এখন বেকায়দায় পড়েছেন। এই মৌসুমে তাঁরা মাছ ধরে ঋণশোধসহ কিছু পুঁজি করেন তবে এবছরের শুরুতে বাধার কারণে আর পারছেন না। তাঁদের দাবি স্থানীয় প্রশাসন সেখানে মৎস্যজীবিদের মাছ ধরা উম্মুক্ত করে দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন বিলটি মৎস্যজীবি সমতির নামে ইজারা দেওয়া হয়েছে।