বগুড়ার কাহালু উপজেলায় মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনে ১০-১৫ বার লোডশেডিং হওয়ার নজিরও রয়েছে এই উপজেলায়।
বেশ কিছুদিন ধরে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) এর অতি ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ায় অতিষ্ঠ বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহক। চাহিদা মাফিক এখানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও সেই সুবিধা পাচ্ছেনা গ্রাহকরা। গত মঙ্গলবার প্রায় ১০ থেকে ১৫ বার লোডশেডিং এর ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমান সময়ে আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সকল কিছুই বিদ্যুৎ এর উপর নির্ভরশীল। প্রায়ই এইভাবে বিদ্যুতের ভেলকিবাজীতে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন গ্রাহকরা। যান্ত্রিক সভ্যতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কল-কারখানা, বিভিন্ন অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়ির কাজে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। যুগে এখন প্রায় সকল কাজেই বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার ঘটনায় অনেকের মুল্যবান জিনিসপত্র বিকল হয়ে যাচ্ছে।
নেসকো দুপচাঁচিয়া অফিস সুত্রে জানা গেছে তাদের অধীনে দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলায় আবাসিক, শিল্প কারখানা, সেচ, ক্ষুদ্র শিল্প ও বাণিজ্যিকসহ বিভিন্ন শেণীর মোট গ্রাহক রয়েছে ২৯ হাজার। এই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ চাহিদা ২০ থেকে ২৩ মেগাওয়াট। চাহিদা মোতাবেকই সেই বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। অথচ চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ নেসকো পেলেও গ্রাহক তাদের চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ পাচ্ছেনা। প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক সময় বন্ধ রাখা হয়।
কাহালুর উলট্ট এলাকার নেসকো বিদ্যুৎ মোঃ আব্দুল্লাহ্ জানান, নানা অজুহাতে দেখিয়ে নেসকো প্রায় সময়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে। এতে প্রচন্ড বিরোক্তি বোধ করছি। কাহালু টিএনটির পার্শ্বে আরেক গ্রাহক আমির হামজা জানান, ইদানীং সময়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ইলেকট্রিক জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার পথে।
কাহালু পৌর সদরের একাধিক ব্যবসায়ী, চাউলকল মালিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহক ক্ষুব্দ হয়ে জানান, এই ঘন ঘন লো শেডিং হওয়ার করণে আমরা অনেক ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছি, ওর্ডার ডেলিভারী করতে আমাদের দেরী হচ্ছে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের দায়িত্বহীনতা এবং এ অঞ্চলের প্রতি অবহেলার কারণেই এমনটি হচ্ছে। বর্তমান সরকার এই উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা করলেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা থেকে আমরা বঞ্চিত। সরকার বিদ্যুৎ সেক্টরে অনেক ভালো কাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সরকারের বদনাম হচ্ছে।
এ উপজেলার সাধারণ গ্রাহকদের প্রশ্ন বিদ্যুৎ অফিসের কথা অনুযায়ী এখানে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ দেওয়া হলেও যে সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে, সেই বিদ্যুৎ কোথায় যায়?
নেসকো দুপচাঁচিয়া অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসাদ্দেক কবির জানান, গ্রাহকের চাহিদার মোতাবেক আমরা বিদ্যুৎ পাই। কিন্তু বজ্রপাত, ঝড়-বৃষ্টি ও বাঁদুর পড়ার কারণে লাইনের অনেক সময় সমস্যা হয়। যেখানে সমস্যা হয় সেখানে আমাদের লোকজন দ্রুত মেরামত করবার চেষ্টা করা হয়।
অত্র উপজেলার সুধীজন বিদ্যুৎ অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিবার কথা বলেও পাচ্ছেন না এর কোন সঠিক সমাধান।