পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের আগে বেশ কয়েকমাস ধরে চলছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র।
দায়িত্বশীল গোয়েন্দা কর্তারা সে ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের উপর ছিল তাদের বেশিরভাগেরই অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন সাক্ষ্যে। এই সামগ্রিক ব্যর্থতার ফলেই দেশ হারিয়েছে তার জাতির পিতাকে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন মোট ৬১ জন। তাদের বিভিন্নজনের বক্তব্যে উঠে এসেছে কিভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে দেশ গঠনের কাজ শুরুর পর থেকেই নানাভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে বিভিন্ন মহল। কিন্তু হত্যার মূল ষড়যন্ত্র শুরু হয় পঁচাত্তরের মার্চ থেকেই। হত্যা মামলায় ৪৩ নম্বর সাক্ষী ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক অধ্যাপক খুরশিদ আলম। তার দেয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বার্ডে মার্চের শেষ দিকে মোশতাকের নেতৃত্বে প্রথম বৈঠক করেছিল খুনিরা। দ্বিতীয় বৈঠক হয় মে-জুন মাসের দিকে মোশতাকের গ্রামের বাড়িতে। তৃতীয় বৈঠকও হয় একই স্থানে জুন-জুলাই মাসের। মোশতাকের নেতৃত্বে এই তিন বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন তাহের উদ্দিন ঠাকুর এবং সেনাবাহিনীর ঘাতক অফিসাররা।