গত অর্থ বছরে করোনাকালে সরাইল হাসপাতালে ৭ টি খাতে সরকারি মোট বরাদ্ধ ছিল ১৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫২০ টাকা। ওই টাকা ব্যয় নিয়ে তৈরী হয়েছে সন্দেহ ও সংশয়। জনগণের পক্ষে ওই ব্যয়ের সঠিক তদন্তের দাবী তুলেছেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও হাসপাতালের স্থায়ী কমিটির সভাপতি রোকেয়া বেগম। গত ২৮ জুলাই ২৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক ভেরিফাইড আইডিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ দাবী করেন। তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশিল সমাজের লোকজনকে তদন্তে অংশ গ্রহনের আহবান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত তার বিবৃতিটি হলো-“ গত অর্থবছরের করোনাকালীন সময়ে সরকারি বরাদ্ধ সরাইল সরকারি হাসপাতালের এই টাকা বিভিন্ন খাতে খরচা করার জন্য সরকার দিয়েছেন কিন্তু তা কিভাবে ব্যয় করা হয়েছে তা জনগণ জানে না। আমি অনুরোধ বরব,উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সাংবাদিক ভাইয়েরা ও সুশীল সমাজের কাছে তা যাচাই করার জন্য। আমি সরাইল সরকারি হাসপাতালের স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়ে এই ব্যাপারে কিছু জানি না। হাসপাতালের কোন সভা হয় না, জনগণের পক্ষ থেকে সঠিক তদন্ত চাই।” সেই সাথে একটি কাগজে হাতে লেখা বিভিন্ন খাতে বরাদ্ধের টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। সে গুলো হচ্ছে-আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮ শত টাকা, পরিবহন বাবদ ব্যয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ভ্রমন বাবদ ব্যয় ১ লাখ ৮ শত টাকা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বাবদ ব্যয় ৪০ হাজার ৫৬০ টাকা, সম্মানি ভাতা ২৫ হাজার ২ শত টাকা, টিকাদান কার্যক্রমের জন্য ১ লাখ ২ হাজার ১৬০ টাকা ও পরিসংখ্যানবিদ ডাটা এন্ট্রি বাবদ ২৮ হাজার টাকা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. নোমান মিয়া বলেন, টাকা কোথায় কিভাবে কত খরচ হয়েছে? সকল ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে। সময় হলে সবই দেখাব। বিষয়টি নিয়ে উনি আমার সাথে কথা বললে এমনটি হত না। রোকেয়া বেগম বলেন, আড়াই বছরের মধ্যে আমি কিছুই জানি না। সভা করেন না। কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর নেন রেজিষ্ট্রার বাসায় পাঠিয়ে। করোনাকালীন বরাদ্ধের সরকারি পত্র আমার হাতে আছে। এত গুলো টাকা কোথায় কিভাবে খরচ করলেন আমাকে কিছুই বললেন না। সদস্য সচিব সর্বক্ষণ একটি পেশার পরিচয়দানকারী কিছু দালাল নিয়ে বসে থাকেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, আপ্যায়ন সহ উল্লেখিত খাতে বরাদ্ধের বিষয়টি পত্র দেখলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আর এ গুলো দেখার দায়িত্ব সিভিল সার্জনের দফতরের। আমাদের নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয় গুলো সমন্বয় করা।