দিঘলিয়া উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণ জিআর ও ভিজিএফ এর সুভিধাভোগীদের মাঝে বিতরণকালে ওজনে কম দেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে ও সুবিধাভোগী সূত্রে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে ত্রাণের মালামাল বিতরণসহ নানা অনিয়ম,দুর্নীতি আতœসাতের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এব্যাপারে ইউপি সদস্যগণ একাধিকবার স্থানীয় ও উর্ধতন মহলে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও তারা কোন প্রতিকার পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের সংবাদ নানা সামাজিক প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিতও হয়েছে।কিন্তু উক্ত চেয়ারম্যান তাঁর অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ধারাবাহিকতায় শনিবার বিতরণ করা হয় ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রদত্ত ১০ কেজি চাল। কিন্তু চাল বিতরণে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যেককে ১০কেজির পরিবর্তে ৮কেজি/সাড়ে ৮কেজি দেওয়া হয়েছে। চাল দেওয়া শুরু করলে চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ তৎক্ষনাৎ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুল আলমকে জানালে তিনি দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার(উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার) কে ও দিঘলিয়া থানা পুলিশকে পাঠান। তিনি সবাইকে ১০কেজি করে চাল সঠিক ভাবে পরিমাপ করে দিতে নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য যে উক্ত চেয়ারম্যান কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত জিআরের ১০কেজি করে চাল না দিয়ে প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ৮কেজি করে চাল দিয়েছে এবং চাল বিতরণ কালে স্ব স্ব ওয়ার্ড সদস্যদের না রেখে চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন বহিরাগত লোকদের দিয়ে চাল বিতরণ করেন বলে জানা গেছে। জিআরের চাল বিতরণকালীন এপ্রতিবেদক সরেজমিনে কেন্দ্রে উপস্থিত হলে সুবিধাভোগী অনেক লোক চাল কম দেওয়ার অভিযোগ করে। তিনি সেখানে কোন ট্যাগ অফিসারকে দেখতে পান নি। উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও চয়ারম্যানের লোকজন এসময় দ্রুত চাল বিতরণ বন্ধ করে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। চাল ওজনে কম দেওয়া ও বিতরণ বন্ধ করার ব্যাপারে ইউপি সচিব বলেন লোকজন কম, আরো লোক এলে চাল দেওয়া হবে। সমাজ সেবা অফিসের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায়, চাল বিতরণকালীন চাল কম দেওয়া নিয়ে অনেক গোলমাল হয়।সংবাদ পেয়ে ইউএনও স্যার এসে ১০ কেজির স্থলে ৯ কেজি করে দিতে বলেছেন। কারণ হিসেবে চেয়ারম্যানের লোক বেশী বলে জানায়। আমি ও আমার স্যার ওখানে ছিলাম,একটু আগে এসেছি। তবে এ সময় চেয়ারম্যান পরিষদে ছিলেন না। তাঁর সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগযোগ সম্ভব হয়নি। সুবিধাভোগী শাহীন ৮.৪কেজি, আছিয়া বেগম ৮.২ কেজি, নুরজামাল ৮.৬ কেজি, খোকন ৮.১কেজি ও আজিজুল ৮.৪ কেজি চাল পেয়েছে এবং এদের বাড়ি থেকে আনা বস্তা সহ পরিমাপ করে তার সত্যতার প্রমান মেলে। এর আগে যাদেরকে মালামাল দিয়েছে এভাবেই ওজনে কম দিয়েছে বলে উপস্থিত সুবিধাভোগীরা এ প্রতিবেদককে জানান। দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা ফিরোজ হোসেন দিঘলিয়া ইউনিয়নে একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়েই যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁর এহেন কর্ম কান্ডের যবনিকাপাত না ঘটায় আজ জনমনে প্রশ্ন উঠেছে চেয়ারম্যানের খুঁটির জোর কোথায়?
এব্যাপারে দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা ফিরোজ হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।