পবিত্র কোরবানী ঈদ উপলক্ষে শেষ মুহুর্তে খুলনার পাইকগাছায় পশুর হাট জমে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন। কোথাও সরকারি নির্দেশনা অনুয়ায়ী স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করে মাইকিং এর মাধ্যমে গরু-ছাগল বিক্রিয় হচ্ছে। আবার কোনো হাটে উপছে পড়া ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা করছেন না কেউ। রাড়-লীতে করোনায় সচেতনতা স্বরুপ মাইকিং করে শ্রীকন্ঠপুরে পশুর হাটে ফাঁকা-ফাঁকা ভবে গরু-ছাগল ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এদিকে রোববার দিনভোর জেলার বৃহত্তম চাঁদখালী পশুর হাটে উপছে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণ ভাবে ব্যাপক পরিমাণ পশু কেনা-বেচা হয়েছে। তবে নিয়ম মানছে না কেউ। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির অভাব যথেষ্ট। ঐতিহ্যবাহী গদাইপুর কোরবানী ঈদের পশুরহাট শুরু থেকে জমজমাট। উপজেলার চাঁদখালী, শ্রীকণ্ঠপুর, গদাইপুর ও কাশিমনগর কোরবানী ঈদের পশুরহাট বসেছে। অব্যবস্থাপনায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম পশুর হাট আজ ধ্বংসের পথে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে পশুর হাট পরিচালনা করার জন্য প্রশাসনের নির্দেশ পালনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন হাট কর্তৃপক্ষ। মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতা ও বিক্রেতাকে পশুর হাটে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত হাট চলবে। পশুর হাটে ছোট-বড়, মাঝারি সাইজের গরু হাটে উঠেছে। তবে দাম নিয়ে খুঁশি না কোনো পক্ষই। ক্রেতা বলছেন দাম বেশি আর বিক্রেতা বলছে দাম কম। তবে গৃহস্থলে পালা স্বাস্থ্যসম্মত দেশী জাতের গরু স্থানীয় ক্রেতা ও ব্যাপারীদের কাছে চাহিদা বেশি। যাহা স্থানীয় হাটগুলোতে টাইট গরু হিসাবে পরিচিত। তবে বড় সাইজের গরুর চাহিদা কম আর বেশি দামের অজুহাতে ক্রেতা ভিড়ছেও কম। গরু বিক্রেতা মফিজ মোড়ল জানান, তার গরুর দাম হয়েছে ১লাখ ১৫ হাজার, তিনি দাম চেয়েছেন ১লাখ ৬০ হাজার। গরু লালন -পালন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এতে করে গরুর যে দাম উঠেছে তাতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে জানান। গদাইপুর পশুর হাটের ইজারাদার শাহ মো. ওলি ও ইউপি সদস্য জবেদ আলী জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাইকিং করে সতর্কতা করা হচ্ছে। তাছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেউ মাস্ক ছাড়া আসলে তাকে বিনা মূলে মাস্ক পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে পুলিশের পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও ডাক্তারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, উপজেলার চাঁদখালী ও কাশিমনগর দুটি স্থায়ী এবং গদাইপুর ও শ্রীকন্ঠপুর বাজারে পশুরহাট বসেছে। হাট গুলোতে ছোট ট্রাকে করে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে আসছেন। এ সব বাজারে ছোট গরু সর্বনিন্ম ৩৫ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় গরু বিক্রি হচ্ছে। বিগত বছর গুলোতে বিদেশী জাতের গরুর চাহিদা বেশি থাকলেও এ বছর দেশীয় জাতের ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। দেশি জাতের ৩৫ হাজার মূল্যের মধ্যে ছোট গরুর চাহিদা বেশি। তাছাড়া ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা দামের গৃহপালিত গরুর বিক্রি হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ। বড় গরু ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছাগল ৬ থেকে ২০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দের সহিত হাটগুলো থেকে পছন্দের পশুটি ক্রয় করছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রাণীসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে মেডিকেল টিম বসানো হয়েছে। পশুর হাটে জালনোট রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন থানা পুলিশ।