কোরবাণির ঈদের ২০ দিন আগ থেকে কঠোর লকডাউন। একাধারে ১৪ দিন। কোথাও বসেনি পশুর হাট। ঈদের আগে হাট বসার বিষয়টি অনিশ্চিত। টেনশনে পড়ে যান ক্রেতা-বিক্রেতারা। ঘুম হারাম হয়ে যায় গৃহস্থ ও খামারিদের। উপজেলা প্রশাসন তড়িৎ অনলাইনে পশু ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেন। তবে এখানকার বিক্রেতা ও ক্রেতাদের বড় অংশ এখনো বুঝেন না অনলাইন কি। লোকজন ছুটতে থাকেন গ্রামে গঞ্জে। পাড়ায় মহল্লায়। পশুর মূল্য নিয়ে উভয় সংকটে পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতারা। ভবিষ্যৎ বলতে পারছেন না কেউই। তাই ইচ্ছেমত দাম হাকাচ্ছেন গ্রামের গৃহস্থ বেপারি ও খামারিরা। ঝুঁকি নিয়েই লকডাউন চলাকালে ৩০ ভাগ লোক পশু ক্রয় করে ফেলেন। আর মহামারি করোনার কারণে কোরবাণি দিবেন না ২০-২৫ ভাগ লোক। এরইমধ্যে সরকারি ঘোষণা আসে যথাযথ ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসবে অনুমোদিত পশুর হাট গুলো। লকডাউনও করা হয়েছে শিথিল। গত ১৫ জুলাই থেকে সরাইল উপজেলার পশুর হাট গুলো বসতে শুরূ করেছে। প্রথম দিন সকালেই পশুতে সয়লাব হয়ে যায় সরকারি অনুমোদন বিহীন কালিকচ্ছ বাজার। দেড় সহ¯্রাধিক গরূ মহিষের মধ্যে বিক্রয় হয়নি একশতও। কিছুটা ভেঙ্গে পড়েন খামারিসহ বিক্রেতারা। পরের দিন ১৬ জুলাই শুক্রবার সরাইলের একমাত্র সরকার অনুমোদিত স্থায়ী পশুর হাটটি জমে ওঠে দুপুরের পর। এর আগে সকাল ১০টার দিকে চারিদিকে বাঁশ বেঁধে পশুর হাট বসে যায় কালিকচ্ছ বাজারে। অনুমোদন বিহীন ওই বাজারে বাঁধা দেয় পুলিশ। বেলা ২টার পর দীর্ঘদিন পর জমে ওঠে সরাইল পশুর হাট। ছাগল গরূ মহিষে কাণায় কাণায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে হাটটি। হাটে খামারি সহ বিক্রেতার সংখ্যা বেশী হলেও ক্রেতা ছিল কম। তাই দামও ছিল তুলনামূলক কম। দাম কম হওয়ায় গরূ ছাড়েননি অধিকাংশ গৃহস্থ ও বেপারি। শুক্রবার রাত ৮-৯টা পর্যন্ত চলে ক্রয়-বিক্রয়। তবে মূল্য ছিল লকডাউন চলাকালে দামের তুলনায় অনেক কম। খুবই চিন্তিত দেখা গেছে বেপারি ও খামারিদের। অনেকে গাড়ি করে পশু ফেরৎ নিয়ে গেছেন। পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সর্বক্ষণ অবস্থান করেছেন ইউএনও ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতর সূত্র জানায়, মাত্র ৩ দিনের অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে ৩ জায়গায়। এরমধ্যে অরূয়াইল কলেজের পেছনে বালুর মাঠে। ইজারা মূল্য ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা বাজার সংলগ্ন স্থানে। ইজারা মূল ৬০ হাজার টাকা। শাহবাজপুর রয়েল ব্রিকস্ সংলগ্ন স্থানে। ইজারা মূল্য ৬১ হাজার টাকা। অন্যান্য বারের চেয়ে এবার পশুর হাট থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে কম। কারণ এবার ৪টির স্থলে ৩ অস্থায়ী হাট অনুমোদন পেয়েছে। শাহবাজপুর পশুর হাটের ইজারাদার মো. জামাল মিয়া বলেন, ইজারা মূল্য ৬১ হাজার টাকা। বাজার পেতে বাঁশসহ মোট ১ লাখ ২৫ হাজার খরচ করতে হয়েছে। পত্র এখনো পায়নি। আজ (গতকাল) ৩টায় নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে যেতে বলেছেন। তবে (শনিবার বিকালে) হাট বসে গেছে। লোকজনকে ঠেকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, অস্থায়ী হাটের সংখ্যা কম হওয়ায় এ বছর রাজস্ব আদায় হয়েছে কম। অফিসিয়ালি ১৮ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত অস্থায়ী হাট গুলো বসবে। পত্রে লেখা স্থান ব্যতিত অন্য কোথাও হাট বসাতে পারবেন না।