দাকোপে শিক্ষকনেতা এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পরষ্পর বিরোধী অবস্থানে হুমকির মূখে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রমান মেলেনি প্রাথমিক তদন্তে। লিখিত অভিযোগ হয়েছে উপজেলা শিক্ষক সমিতির দু’নেতার বিরুদ্ধে।
দাকোপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদনের ভাতা প্রদানে অনিয়ম ও দূর্নীতিসহ বেশ কিছু অভিযোগ এনে উপজেলা শিক্ষক সমিতির দু’নেতা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের সুত্র ধরে কয়েকটি পত্রিকাসহ সামাজিক প্রচার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হয়। সংবাদ প্রকাশের পর আনীত অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত করেন উচ্চ পর্র্যায়ের কর্মকর্তারা। তদন্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা এই মূহুর্তে গনমাধ্যমে বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তবে শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রাপ্তির মঞ্জুরীর আদেশপত্র, ব্যাংক হিসাব বিবরণী এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সকল রেকর্ডপত্র জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস অনুসারে যাচাই বাছাই করে শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট সুত্র।
অপরদিকে উপজেলার রামনগর জগন্নাথ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ন চন্দ্র মন্ডল এবং সদ্য অবসরে যাওয়া পানখালী-১ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ গোলদার বাদী হয়ে গত ১২ জুলাই ২০২১ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ওই ২ নেতার বিরুদ্ধে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির অবৈধ পদ ব্যবহার করে অভিযুক্ত ২ নেতা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালীদের মদদে বেপরোয়া হয়ে দূর্ণীতি অনিয়ম চাঁদাবাজি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা এমন দাবী করেছেন। অভিযোগে তাদের দূর্ণীতি অনিয়মের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানাযায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে উপজেলায় ১১৮ জন শিক্ষককের শ্রান্তি বিনোদন ভাতার জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। সোনালী ব্যাংক চালনা বাজার শাখা শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা করে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে গ্রাহকদেরর নিয়ম অনুুযায়ী অবহিত করেন। যেখানে অসতর্কতাবসত ৪/৫ জন শিক্ষক ৩ বছর পূর্তির আগেই ফের সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানতে পারেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে আর্থিক বিধি “জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস” অনুসারে সেটি সংশোধনসহ এ বিষয়ে তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, জনৈক সহকারী শিক্ষক উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল ড্রেস তৈরীর দায়িত্ব নিয়ে অতীতের ধারাবাহিকতায় বড় অংকের অর্থ বাণিজ্যের চেষ্টা করে। কিন্তু বর্তমান শিক্ষা কর্মকর্তা ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সৃষ্ট বিরোধ থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া এবং গনমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য সরবরাহে অপপ্রচার শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, একজন সৎ দক্ষ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসাবে অহিদুল ইসলাম অবৈধ সমিতির রোষানল থেকে সাধারণ শিক্ষকদের মুক্ত করে উন্মুক্ত সেবা দিচ্ছে। যে কারণে এই নোংরা খেলা। তারা যে কোন মূল্যে এই ঘৃণ্য তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী জানান।