কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় ৫৬ হাজার ৪০১টি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এ তথ্য দিয়ে বলেন, তবে এরমধ্যে বড় গরু পালন করে আলোচনায় এসেছেন কয়েকজন খামারী। জেলায় এবছর ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে খামারী ও পশু বিক্রেতাদের জন্য জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অফিসের উদ্যোগে অনলাইন পশুর হাট খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনলাইন পশুর হাটে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। প্রতিনিয়ত এখানে বিক্রয়যোগ্য পশুর ছবি ও ভিডিও আপলোড করতে পারছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে তালা উপজেলার নগরঘাটা উত্তরপাড়া গ্রামের আবদুল মাজেদ বিশ্বাস প্রায় দুই যুগ ধরে গরু পালন করছেন। যা প্রতিবছর কোরবানি ঈদে বিক্রয় করে থাকেন। এবছর তার খামারে ১০টি গরু রয়েছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু রাজা বাবু। যেটি তিন বছর যাবত পালন করছেন তিনি। পরিবারের সকলেই অনেক যতœ দিয়ে পালন করেছে রাজাবুবুকে। বিশাল আকৃতির এই রাজাবাবুর যতœটাও একটু বেশি। খাওয়ানো গোসল করানোসহ সকল বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হয়। ২৫ মণ ওজনের রাজা বাবুকে দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে মাজেদ বিশ্বাসের বাড়িতে।
আব্দুল মাজেদ বিশ্বাস বলেন, তার খামারে রাজাবাবুসহ সকল গরু শাহিওয়াল জাতের। এ জাতের গরু দেখতে সুন্দর, ভারী দেহ এবং গরুর রোগবালাই খুবই কম হয়।
তিনি আরও বলেন, নামে যেমন রাজা বাবু স্বাস্থ্যে ও অঙ্গভঙ্গিতে রাজার মতই। প্রতিদিন রাজাবাবুর খাদ্যের খরচ হয় প্রতিদিন তিন থেকে চারশত টাকা। তবে ভালো দিক হলো রাজাবাবু পল, কুড়া, ভুষি, খৈল, সবুজ ঘাষ, লতা পাতা খেতে বেশি পছন্দ করে। বড় গরু পালন করা খুব কঠিন নয়। অভিজ্ঞ খামারিরা সহজেই এধরনের গরু পালন করতে পারে তবে বিক্রয় নিয়ে পড়ে যায় দুশ্চিন্তায়। বড় গরু যদি ভালো দামে বিক্রয় করা যায় তাহলে গরু পালনে আগ্রহী হবেন খামারীরা।
এদিকে, করোনার ভাইরাসের প্রভাবে গরু নিয়ে একটু দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মাজেদ বিশ্বাসের পরিবার। করোনার কারণে মানুষ বড় গরু ক্রয় করছেনা বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে রাজাবাবুর দর উঠেছে ৫ লক্ষ টাকা। তবে ৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন আবদুল মাজেদ বিশ্বাস।