খুলনার রূপসা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কটি বেহাল দশায় পতিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এ অবস্থা চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
সরেজমিন দেখা গেছে, রূপসা উপজেলার জাবুসা বাজার-রূপসা ফেরীঘাট সড়ক (পূর্ব রূপসা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক) থেকে খানজাহান আলী (রহ.) সেতু সংলগ্ন জেমিনি সি-ফুড পর্যন্ত এলজিইডির আওতাধীন সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটারই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পূর্ব রূপসা বাসস্ট্যান্ড হতে রূপসা সেতু পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার জুড়ে এ রাস্তার দুপাশে ২৪টি বৃহৎ আকারের চিংড়ি মাছ রপ্তানিকারক কারখানাসহ কয়েকটি বরফকল এবং প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিও রয়েছে। দ্বিতীয় রপ্তানি খাতের এই প্রতিষ্ঠানগুলির সামনের রাস্তাটির নাম বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়ক। যা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সবদিক বিবেচনায় রাস্তাটির গুরুত্ব থাকলেও অবহেলায় জরাজীর্ন অবস্থা। প্রতিদিন এই ভাঙ্গা, খানা খন্দকের রাস্তায় বালু আর পাথর বোঝাই শতাধিক ট্রাক চলাচল করে। ভারি যানবাহনগুলি হেলে দুলে অতি কসরত করতে করতে রাস্তা ভেঙ্গে চলছে। সেই সাথে মাছ কোম্পানির মাছ ভর্তি ট্রাকও চলাচল করে আসছে। এই রাস্তাটির উপর দিয়ে কয়েক জায়গায় বালু উত্তোলন ড্রেজারের মোটা লোহার পাইপ আড়াআড়িভাবে পার হয়ে গেছে। পাইপের উঁচু অংশ অতিক্রম করতে গিয়ে ২/৩ দিন পর পর ট্রাকের এক্সেল ভেঙ্গে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে জনগনকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাস্তার সব থেকে খারাপ অংশ টুকুই কোস্টগার্ড স্টেশন অফিসের সমনে। রাস্তাটির ব্যাপারে ভ্যান চালক আকরাম হোসেন বলেন, রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ভ্যানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে এ রাস্তাটি নতুন করে করা জরুরি। অপর ভ্যান চালক মো. সেলিম বলেন, রাস্তাটি এতটা ভেঙ্গেছে তাতে চলাচল করতে খুব অসুবিধা হয়ে পড়েছে। এ রাস্তা দিয়ে ভ্যান চালিয়ে যে ইনকাম হয়, তার থেকে ভ্যানের পিচনে ব্যায় হয় বেশি।
ট্রাক ড্রাইভার মো. জামাল বলেন, এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সড়ক দিয়ে ভারি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারপরও হাই লোড দিয়ে বড় গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. তারেক আজিজ বলেন, চিংড়ি শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত দশ চাকার বালু বোঝাই ডামপার ট্রাক চলাচলের কারণে এ রাস্তাটি মানুষের চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বার বার রাস্তাটি নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা লেখালেখি করা সত্বেও কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম সুমন (মাইঝে ভাই) বলেন, আর কিছুদিন পরে রাস্তা আর রাস্তা থাকবে না, এ রাস্তা নদী হয়ে যাবে।
মৎস্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান নিউ ফুডস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোল্লা কামরুজ্জামান কামাল বলেন, এ রাস্তাটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এভাবে থাকলে, এ রাস্তা দিয়ে সাঁতার কাটার মতো অবস্থা হবে। এ রাস্তাটি নিয়ে সাংবাদিকরা কয়েক বার প্রতিবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। নৈহাটী ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বুলবুল বলেন, এ রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এ রাস্তাটির দুই পাশে ২৪টির মত মাছ কোম্পানি রয়েছে। এখানে হাজার হাজার শ্রমিকরা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। রাস্তাটি অতি জরুরী সংস্কার করা না হলে আর কিছুদিন পর মানুষ চলাচলের জন্য আরো বেশি অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এদিকে পূর্ব রূপসা রেলস্টেশন হতে শুরু করে রামনগর মেইন রোড থেকে মাইঝের খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়লেও দেখার কেউ নেই। এ এলাকাটি ঘনবসতি, এ এলাকা দিয়ে খুলনা, রূপসা সহ বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন চলাচল করেও থাকেন। অতি জরুরী রাস্তাটি সংস্কারের প্রয়োজন বলে মনে করেছেন এলাকাবাসী।