খুলনার পাইকগাছায় গত বছর লকডাউনে জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁঁছে দিলেও এবার তাদের দেখা নেই বললে চলে। ব্যাক্তিগত ভাবে কেউই নিচ্ছেন না কারো খবর। সবাই চেয়ে আছেন সরকারী ত্রাণ সাহায্যের দিকে। শ্রমজীবী মানুষরা চরম কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। লকডাউনের দিন যত বাড়ছে ততই বাড়ছে তাদের অভাব। শ্রমজীবী বিশেষ করে দিন আয় দিন খায় অসহায় মানুষরা জানান, টানা দুই সপ্তাহের চলমান লকডাউনে উপজেলার নিন্ম আয়ের মানুষরা চরম বিপাকে পড়েছেন। গত বছর লকডাউনের সময় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে মনোনয়নের প্রত্যাশায় অসংখ্য জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবান ব্যাক্তি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁঁছে দিয়েছেন। কিন্তু এবার কঠোর লকডাউনে তাদের কারো কোনো দেখা মিলছে না। ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারও চেয়ে আছেন সরকারী ত্রাণের দিকে। গতবার তারা নিজেদের পকেট থেকে সাহায্য করলেও এবার তা করছেন না বলে জানিয়েছেন অসহায় মানুষ গুলো। তাদের বলেন, এই লকডাউনে সবচেয়ে কষ্টে আছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চায়ের দোকানদার, দিনমজুর, ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল ড্রাইভার, ভ্যান চালক, কুলি, দিনমজুর ও ইজিবাইক ড্রাইভার সকল প্রকার যানবাহনের শ্রমজীবী সহ স্বল্প আয়ের মানুষ। ১৪ দিনের লকডাউনের ঘোষণা দেওয়ায় পর থেকে তারা ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের কোনো রোজগারের পথ না থাকায় সংসার চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। পাইকগাছা উপজেলা সকল শ্রমিকের সংগঠনের নেতৃবৃৃন্দরা জানান, লকডাউনের পর থেকে তেমন কোনো কাজ নেই। রোজগার না থাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। এখন আর কেউ তাদের খবর নিচ্ছে না। গত বছর লকডাউনে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রতিনিধি, বিত্তবানসহ মনোনয়ন প্রত্যাশিরা তাদের বাড়িতে গিয়ে ত্রাণ সহায়তা পৌঁঁছে দিলেও এবার তাদের দেখা নেই। একপ্রকার বোবা কান্না দিন খাঠা শ্রমজীবী মানুষ গুলোর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের জন্য যথেষ্ট খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা অসহায় মানুষের মাঝে সেগুলো বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। আরও ত্রাণ সহায়তা পেলে পরবর্তীতে অন্যান্যের দেওয়া হবে।