খুলনার পাইকগাছায় করোনায় আক্রান্ত মৃত্যু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এদিকে রোগী চাপ এত বেশী যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসন সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ৪জুলাই ৪২জনের নমুনা টেষ্টে ১৮জনের করোনা শনাক্ত। ৩জুলাই ৫৫জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩১জন শনাক্ত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ইউনিটের মূখপাত্র ডা. ইফতেখার বিন রাজ্জাক জানান, রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে মে মাসের পর থেকে এপর্যন্ত মোট ৫৫৫জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যুবরণ করেছে ১১জন, মোট সুস্থ ৩০৭জন, আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি মোট ১৫জন, যার মধ্যে পজেটিভ নতুন ০৪জন সহ ১২জন এবং ১জনকে রিফার্ড করা হয়েছে। উপজেলা হাসপাতালে শনাক্তের হার ৫৬.৩৬শতাংশ, পাইকগাছার মধ্যে ৪৯.৫৪শতাংশ। খুলনা আরটি পিসিআর ল্যাবে ১৯জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্ল¬ক্সের করোনা ওয়ার্ডে মারাত্মক বেড সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন রোগী বেড না থাকায় ফেরত যাচ্ছে। দিতে পারছে না অক্সিজেন। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্বাসকষ্ঠের রোগীসহ করোনা আক্রান্তরা রোগীরা। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। এদিকে ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন কাজ করছেন হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সরা। পাশ্বর্তী উপজেলা কয়রা হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড বন্ধ। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে পাইকগাছায় করোনা আক্রান্তের হার এই মুহুর্তে শীর্ষে। প্রতিদিনিই আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাথে যোগ হচ্ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে কোনো নতুন রোগী ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। কেননা ১৫টি বেডের মধ্যে ১১জনের করোনা পজেটিভ। বাকি ৪জনের করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। তাদের প্রত্যেকের শ্বাসকষ্ঠ হচ্ছে। সকলেরই অক্সিজেন দেওয়া লাগছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় হাসপাতালের বারান্দায় বেঞ্চের উপর রোগীরা। তাদের সকলের শ্বাসকষ্ঠ। কিন্তু বেড ফাঁকা নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলদার জানান, ফিল্ড স্টাফ বাদে গত বছর থেকে হাসপাতালের ৮জন ডাক্তার, ৪জন নার্স ও অন্যান্য স্টাফ ১১জন আক্রান্ত। তিনি হাসপাতালের বেড সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, যাদের অক্সিজেন সেচুলেশন ভালো তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনবল সংকটের কারনে অন্য রোগীদের চিকিৎসা সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, বাড়ি থেকে যাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব তাদেরকে বাড়ি থেকে সেবা দেওয়া হবে। তবে এই মুহুর্তে বেড বাড়ানোর সম্ভবনা নেই। এরপরও যদি মারাত্মক অসুবিধা হয় তাহলে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ঠরেদর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণের অসচেতনতা ক্রমশঃ আমাদের বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ ব্যবস্থায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনগণের সচেতন জীবন-যাপনই করোনা প্রতিরোধের একান্ত উপায়। বিএমএর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহা. শেখ শহীদ উল্লাহ জানিয়েছেন, কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ওয়ার্ড এবং পাইকগাছা হাসপাতালে যাতে বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায় সে ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। হয়তো দুই একদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
এদিকে করোনা এ বিপর্যয়ে পাইকগাছায় অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করলেন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু। তিনি ৫জুলাই সোমবার সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনাতনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভিড়িও কনফারেন্সেসের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে এ অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন করেন। এ সময়ে তিনি এ কান্তিলগ্নে সমাজের দানশীল ব্যাক্তিদের বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। আয়োজকরা বলেন ১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডানের মাধ্যমে এ ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সমিরণ সাধু'র সভাপতিত্বে এসময়ে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার ইকবাল মন্টু, পৌরমেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহরিয়ার হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ নীতিশ চন্দ্র গোলদার, ওসি (অপারেশন) স্বপন রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু। প্রভাষক ময়নুল ইসলামের পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, পল্লী বিদ্যুৎ এর ডিজিএম রেজায়েত আলী, ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন, জেলা আ.লীগের সদস্য শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত, প্যানেল মেয়র শেখ মাহবুবর রহমান রঞ্জু, পুলিশিং ফোরামের সভাপতি দাউদ শরিফ, যুবলীগনেতা আজিজুল হাকিম, আকরামুল ইসলাম, মানবেন্দ্র মন্ডল, গৌতম রায়, ইদ্রীস আলী, সিপিপি'র টিম লিডার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আফি আজাদ বান্টি, দিপংকর মন্ডল, রায়হান পারভেজ রনি ও মিথুন প্রমুখ।