খুলনার কয়রায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ পোল্ডারের উত্তর বেদকাশির গাতিরঘেরি বেড়িবাঁধের এক’শ ফুটের বেশি জায়গা গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে ভেঙে লন্ডভন্ড হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েকদফা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ জাইকার সহায়তায় মেরামতের আশ্বাস দেন। জুনের মাঝামাঝিতে জাইকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গাতিরঘেরি বেড়িবাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বাঁধ মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ার কারণে জাইকা কাজ শুরু না করে চলে যায়। এ অবস্থায় পুরো গাতিরঘেরি এলাকায় প্রতিনিয়ত শাকবাড়িয়া নদীর লোনা পানিতে দু’বার জোয়ার-ভাটা ওঠানামা করছে। ফলে বানভাসি হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ ও দুঃখকষ্টে দিন পার করছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য রমেশ চন্দ্র সরকার বলেন, এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলো অথচ গাতিরঘেরির বেড়িবাঁধটি মেরামত করতে কর্তৃপক্ষ কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না কিছুই বুঝতে পারছি না। প্রতিনিয়ত লোনা পানি ওঠানামায় মানুষের ঘরবাড়ি, পশুপাখি, গাছগাছালির অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই। এ মুহুর্তে বাঁধটি মেরামত করা সম্ভব না হলে চলতি আমন মৌসুমে গাতিরঘেরি ও বীনা পানি এলাকার ৬শ বিঘা জমিতে কৃষকরা আমন ধান রোপন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হবেন বলে তিনি জানান। গাতীর ঘেরী এলাকার অমল মন্ডল বলেন, প্রায় ১ মাস ৮ দিন হয়ে গেল সেই থেকে পাউবোর বেড়িবাধে অবস্থান করছি। বাঁধ বাধা না হলে বাড়ি ফেরার কোন সম্ভবনা নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু ইতোমধ্যে কয়েক বার গাতিরঘেরী ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শন করেছেন। তিনি দ্রুত সম্ভব পানি আটকানোর জন্য পাউবো কর্তৃপক্ষকে নিদের্শনা দিয়েছেন। তিনি সার্বক্ষনিক বাঁধ বাঁধার কাজের ব্যাপারে খোজখবর রাখছেন। উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেড়িবাঁধ মেরামতের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আমরা জনপ্রতিনিধিরা পাউবো কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে কোন ফল পাচ্ছি না। এখানকার মানুষ খেয়ে না খেয়ে কষ্টে দিন পার করছে। অথচ ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধটি মেরামতের কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্থ গাতিরঘেরির বাঁধ জাইকা মেরামত করবে। কিন্তু তাদেরকে বার বার তাগাদা দেয়া সত্বেও তারা সাড়া দিচ্ছে না। জাইকার কাজ করার বিষয়টি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর দেখভাল করছেন বলে তিনি জানান। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে প্রবল জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে লবণ পানিতে তলিয়ে যায় উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৫০ টি গ্রাম। ঘূণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার অতিমাত্রায় জোয়ারের পানিতে উপজেলার শাকবাড়ীয়া ও কপোতাক্ষ নদীর প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে লবণ পানি প্রবেশ করে। বিধ্বস্থ হয়েছে ১২৫০ টি ঘর।তলিয়ে গেছে দুই হাজার পাঁচ'শ চিংড়ী ঘের। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এবং ১৫ হেক্টর জমির কৃষি ফসল নষ্ট হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে যারা ঘর বাড়ি হারিয়ে উঁচু রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে তাদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ভাবে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। গাতিরঘেরীর শাকবাড়িয়া নদীর ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ীবাঁধের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।