মুষলধারে বৃষ্টি বরিশালে ‘লকডাউনকে’ আরও জোরদার করেছে। বুধবার রাত থেকে মুষলধারের বৃষ্টি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বেলা বারোটার পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এর কিছুসময় পর শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টিপাত।
এদিকে ‘লকডাউনের’ প্রথমদিন সকালে নগরীসহ জেলার প্রতিটি উপজেলার রাস্তায় পণ্য ও জরুরি সেবার পরিবহন ছাড়া মোটরসাইকেল ও রিকশার চলাচল তুলনামুলক বেশি দেখা গেলেও বৃষ্টি শুরুর পর রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। যদিও বেলা বাড়ার পর নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া বৃষ্টি শুরুর পর প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষগুলোকেও আর সড়কে দেখা যায়নি। এককথায় বৃষ্টি ‘লকডাউনকে’ পুরোপুরি সফল করেছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার রায় জানান, বর্তমান সময়টা বৃষ্টিপাত হওয়ার। কখনো একটানা আবার কখনো বিরতি দিয়ে বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুইটা থেকে সোয়া তিনটা পর্যন্ত বরিশালে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত কঠোর ‘লকডাউন’ বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টা থেকে নগরীর সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট পরিচালনা করছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে নগরীতে তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
লকডাউনের প্রথমদিনে বৃহস্পতিবার বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ড ও বাটাজোর বাসষ্ট্যান্ডে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপিন চন্দ্র বিশ্বাসের নির্দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রিন্স। এ সময় গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ আফজাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় লকডাউনে নির্দেশনা না মানায় ১০টি মোটরসাইকেল আটকসহ চারজন মোটরসাইকেল চালকের কাছ থেকে এক হাজার দুইশ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।