সরাইল ও এর আশপাশে ঢিমে তালে অবস্থাই ছিল কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন। মানুষ ঘরে থাকেনি। ঘরে থাকেনি অটোরিকশা চালকরাও। কৌশলে দূরপাল্লার যাত্রী টানছেন কিছু পিকআপ ভ্যান ও এ্যাম্বোলেন্স লেখা গাড়ি গুলো। তবে মাঠে থেকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করেছেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল। গতকাল কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনে ভোর থেকেই বিভিন্ন গুরূত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছিলেন সরাইল থানা পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন সহকারি পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. আনিসুর রহমান। তবে বেলা ২টা পর্যন্ত বিজিবি বা সেনা সদস্য বহনকারী কোন গাড়ি চোখে পড়েনি। সরজমিনে দেখা যায়, গতকাল কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন ভোর বেলা মাঠে পুলিশ। চারিদিকে চলছে টহল। আগের ২-৩ দিন কঠোর লকডাউন নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক ও ভীতি কাজ করছিল। সেই ভীতি আর নেই। পায়ে হেঁটে সড়কে চলছেন অগণিত নারী পুরূষ। কেউ মাস্ক পড়েছেন। কেউ কেউ পড়েননি। অনেকে মাস্ক হাতে নিয়ে চলছেন। মাস্ক বিহীন লোকজনকে ধমক দিচ্ছেন পুলিশ। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও কিছু দোকান কৌশলে এক শার্টার খুলে দূরে বসে আছেন। কাষ্টমার আসলে ইশারায় চলছে মালামাল বিক্রি। সড়কে যাত্রী নিয়ে চলছে স্বল্প পরিমান সিএনজি চালিত অটোরিকশা। তবে ব্যাটারি চালিত রিকশার অভাব চোখে পড়েনি। কোন যাত্রী ও চালকের মধ্যে ছিল না স্বাস্থ্যবিধির বালাই। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবস্থা আরো করূন। বিশ্বরোড গোল চক্করের দক্ষিণ পাশে মহাসড়কের উপর দাঁড়িয়ে ১০-১৫ টি ব্যাটারি চালিত রিকশা। ডাকছেন ব্রাহ্মলবাড়িয়া শহরের যাত্রীদের। ভাড়া জনপ্রতি ৮০-১০০ টাকা। চালকসহ ৫ জন নিয়ে চলছেন তারা। আবার শহর থেকে আসছেন এভাবেই। কুট্রাপাড়া এলাকায় খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার সামনে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ৪-৬ টি সিএনজি। যাবে শাহবাজপুর ও মাধবপুর। সরাইল ও কালিকচ্ছ থেকে যাত্রী নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে দেদারছে শাহবাজপুর চান্দুরায় যাচ্ছে কিছু সিএনজি। সব মিলিয়ে সরাইলে মহাসড়কের একাংশে ছিল অটোরিকশার দাফট। আর পণ্যবাহী পিকআপ ভ্যান, আন্ত:জেলা ট্রাক, এ্যাম্বোলেন্স ও কোম্পানির গাড়িতে সয়লাভ মহাসড়ক। এত পরিমাণে এই গাড়ি গুলো স্বাভাবিক দিনেও চোখে পড়ে না। এরা শুধু পণ্য নয় সড়ক থেকে যাত্রী নামের পণ্যদেরও চড়া ভাড়ায় গাড়িতে টানছেন। গতকাল সরাইলে এভাবেই কেটে গেছে কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন।