দিঘলিয়া উপজেলায় প্রতিটা ঘরে ঘরে সব বয়সের মানুষের জ¦র ও হাঁচি কাশিসহ ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ উপজেলায় করোনার প্রভাবও কম নয়। গত ২৯ জুন ৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জনের পজিটিভ ধরা পড়েছে ও হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। এ উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা প্রচ- ঝুঁকিতে রয়েছে। করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা হিমসিম খাচ্ছে। কঠোর লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সূত্র থেকে জানা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রতিটা ঘরে ঘরে বিভিন্ন বয়সের লোকজন জ¦র ও হাঁচি কাশিসহ ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা ও ঘোষিত লকডাউনের নিয়মনীতি মেনে না চলার কারণে এ ধরণের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে বিজ্ঞমহলের ধারণা। গত বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। এদের মধ্যে উপজেলার স্টোনো ও একজন স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১১৭ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুল আলম এ প্রতিবেদককে জানান এ পর্যন্ত উপজেলায় ৩৭৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৪৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের এবং হোম আইসোলেসনে রয়েছে ১১৭ জন। তিনি আরও জানান, দিঘলিয়া উপজেলায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রেপিড এন্টিজেন টেস্ট শুরু করা হয়েছে গত ২৮ এপ্রিল থেকে। ১০০ টাকা ফিসের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে স্বাস্থ্য কর্মী নমুনা সংগ্রহ করে ফলাফল দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম এ প্রতিবেদককে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের দ্রুত টেস্ট করাতে হবে। তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং কঠোর লকডাউন চলাকালীন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন সবাইকে মেনে চলতে হবে। এর প্রতি কোনো প্রকার অসন্মান বা শৈথিল্য মেনে নেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে দিঘলিয়া প্রশাসন কঠোর অবস্থানে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।