খুলনার পাইকগাছায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোন আক্রান্ত রোগী সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা কম। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে। সোমবার দিবাগত রাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ (৪৫), মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হরিপদ মন্ডল (৮০) এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে সকালে জরিনা খাতুন (৪৮) মারা গেছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. নীতিশ চন্দ্র গোলদার জানান। এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে তারমধ্যে ১৫ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। সব মিলে জুন মাসে মোট আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২১ জন। এপর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪৭ জন। মঙ্গলবার হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১১ জন ভর্তি আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ইউনিটের মূখপাত্র ডা. ইফতেখার বিন রাজ্জাক জানান, মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে ৩২ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষায় ১৫ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন-বেতবুনিয়ার শিহাব আলী (৬০), কমলাপুরের রীতা (২৮), আমিরপুরের হরিপদ (৮০), গদাইপুরের ইমরান (৩২), থানার তানিয়া (২৪), কাকলী (২৮), পাইকগাছায় মোজাম (৩৫), শান্তার আরিফ (৩০), হিতামপুরের নিলুফা (৪০), বাতিখালীর অরণ্য (৩৫), গড়ইখালীর ওমর ফারুক (২৭), চেঁচুয়ার নজরুল ইসলাম (৫০), উপজেলা পরিষদের মহাসিন (৩০) দ্বিতীয় বার, সরলের হাসিনা (৩৫) এবং সালমা (৪২)। উপজেলার আমিরপুরের মৃত প্রতাপ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে হরিপদ মন্ডল (৮০) মঙ্গলবার সকালে পাইকগাছা হাসপাতালে ভর্তি হলে তার কররোনা পজটিভ শনাক্ত হয়। বিকালে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে প্রথমে বাড়িতে পরবর্তীতে পাইকগাছা হাসপাতাল ভর্তি হলে পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। দুপুরের দিকে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা করোনা হাসপাতালে রিফার্ড করলে সোমবার দিবাগত রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড গোপালপুর খালেক গাজীর স্ত্রী জরিনা খাতুন (৪৮) বাড়ীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে বলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছা. রাফেজা খানম। তিনি আরো বলেন, জরিনা ৫/৬দিন ধরে সর্দি-কাশি, জ¦র সহ করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। সর্বশেষ ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম হিরা জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে সোমবার রাতে দেবদুয়ার গ্রামের সচীন রায়ের স্ত্রী কল্যানী রায় (৫০) গত ১০/১৫ দিন জ¦রে ভুগছিল। সোমবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরায় নেওয়ার পথেমধ্যেই মৃত্যুবরণ করে। মঙ্গলবার সকালে মৃতের দাহ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ইউপি সদস্য হিরা জানিয়েছেন। এদিকে পাইকগাছা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ মোঃ. এজাজ শফী দুটো টিকা গ্রহণ করার পরেও সোমবার দ্বিতীয়বার আবারো করোনা পজেটিভ হয়েছেন। তবে তিনি সুস্থ্য ও স্বাভাবিক আছেন।