বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বপ্নের ঠিকানা পেল ৮০ ভূমি ও গৃহহীন পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত ও উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।
বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিফা নুসরাত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল ইসলাম, ওসি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্র মহন্ত, শ্রাবণী আকতার, ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারীসহ জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরপরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিফা নুসরাত সুবিধাভোগীদের হাতে বিনামূল্যে দুই শতক জমির দলিলসহ সেমিপাকা ঘরের চাবি তুলে দেন।
জানা গেছে, মুজিববর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ঘর পেলেন ৮০ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এই টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি রুম, একটি টয়লেট, একটি স্টোর রুম ও বারান্দা। চারদিকে ইটের দেয়াল এবং ওপরে রঙিন টিনের ছাঁদ রয়েছে। দুই শতাংশ খাস জমির ওপর এসব বাড়ি নির্মাণ করা হয়। ভূমিহীনদের দুই শতক জমির দলিল, নামজারি, জমির মালিকানা এবং ঘরের চাবি দেওয়া হয়।
উপজেলার শেখের মারিয়া গ্রামে নতুন ঘর পেয়ে মহিদুল ইসলাম বলেন, হামি স্বপ্নেও ভাবিনি সরকার হামাক পাকা ঘর দিবি। ঘর প্যায়া হামরা খুশি হচি। শেখের বেটি হামাকেরক বড় উপকার করলো। হামরা তাক দুয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে বেঁচে রাখেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিফা নুসরাত বলেন, মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘোষণা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মুজিববর্ষে উপজেলায় প্রথম ধাপে ১৫৬ ও দ্বিতীয় ধাপে আরো ৮০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পেলেন। তারা এই ঘর পেয়ে আনন্দিত ও খুশি।