প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় আইলার অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে ত্রাণ নয় টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ১০ দিনেও মেরামত হয়নি কয়রার ভেঙে যাওয়া গাতীর ঘেরির বাঁধ, সহায় সম্বলহীন মানুষগুলো মানবেতর জীবন যাপন যাপন করছে।। উপকূলীয় কয়রায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস দুর্গত এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ ও প্রশাসনের কাছে এমনই দাবি করছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। দুর্গতদের পুনর্বাসনে সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু উপজেলার ভাঙ্গন কবলিত গাতিরঘেরি বাঁধে পৌঁছলে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধে কাজ করা শত শত গ্রামবাসী স্থানীয় সংসদকে ঘিরে টেঁকসই বাঁধের জোরালো দাবি তুলে। এ সময় সংসদ সদস্য তাদেরকে দ্রুত টেকসই বাঁধের আশ্বস্ত করে সংসদ গ্রামবাসীদের সাথে বাঁধ মেরামতে অংশ নেন। কয়রা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রসঙ্গ। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালেও মানুষ একই দাবি করেন। দুর্গতদের দাবি উন্নত বিশ্বের শিল্প কারখানার কার্বন ডাই-অক্সাইডে বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাচ্ছে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাগরের পানির স্তর সৃষ্টি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছাস সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসব কারণে প্রতিবছর উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক আঘাত হানছে ঘূর্ণিঝড় লন্ডভন্ড হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার বেড়ীবাঁধ, ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়ছে মানুষ সহ তাদের ঘরবাড়ি গবাদি পশু সহ অন্যান্য সহায় সম্পদ। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ১০ দিন কেটে গেলেও কয়রা উপকূলের ভেঙে যাওয়া গাতির ঘেরী বেড়িবাধ মেরামত না হওয়ায় চরম দূর্ভোগে দিনাতিপাত করছে পানিবন্দি শত শত মানুষ। গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নোনা পানিতে নিমজ্জিত হয়। পানির তোড়ে ঘরবাড়ি ধান চাল আসবাবপত্রসহ সহায় সম্বল হারিয়ে-মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে কয়েকটি বাঁধ আটকাতে সক্ষম হলেও উত্তর বেদকাশী গাতিরঘেরি বাঁধ দিয়ে অব্যাহত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে রয়েছে কয়েকটি গ্রাম। এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে।। বাগালি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার পাড় জানান, দশালিয়ার বাঁধ ভেঙে তার ইউনিয়নের ৩১ টি গ্রামের মধ্যে ১৫ টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়, ঘরবাড়ি সহায়-সম্বল হারিয়ে তারা অমানবিক জীবন যাপন করছে। ত্রাণ সামগ্রী বলতে কয়েক বস্তা শুকনো খাবার ছাড়া আর কিছু জোটেনি। তিনি ও ত্রাণ নয় টেকসই বাঁধের দাবী করেন। মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু বলেন, ইউনিয়নের ৩৬ টি গ্রামের মধ্যে ২০ গ্রাম পানিতে প্লাবিত রয়েছে, সহায়-সম্বল হারিয়ে মানুষ মানবতার জীবনযাপন করছে। গ্রাবাসীদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে আমরা ভাঙা বাঁধ আটকানো হলেও আগামী গোনে পানি বৃদ্ধি পেলে কি হবে তার জন্য সংকিত আছি। তিনি টেকসই বাঁধের দাবি করেন। টেকসই বাঁধের দাবি তুলে ধরেন উত্তর বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ নুরুল ইসলাম ও কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাঃ হুমায়ুন কবির। সাতক্ষরীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বলেন,কয়রায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পায় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আংশিক ক্ষতি প্রায় ১৫ কিলোমিটার। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বাঁধ মেরামতের জন্য জাইকা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ শুরু করা হবে। বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাঁধ মেরামতের সরঞ্জামাদি বাঁশ, জিও ব্যাগ, সিনথেটিক ব্যাগ, দড়ি, পেরেক দিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মেরামত কাজ অব্যাহত আছে। কয়রা-পাইকগাছার সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, ষাটের দশকে নির্মিত বাঁধ গুলো দীর্ঘ দিন সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানেই কোন ভাবেই জোয়ারের পানির চাপ সহ্য করতে পারছে না। এজন্য সরকার টেকসই বাঁধ নির্মাণের মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি একনেকে সেটি পাশ করা হবে। সেই কাজ শুরু হওয়ার আগে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহ জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পানি সম্পদ উপমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় জনগণও স্বতঃস্ফুূর্ত ভাবে বাঁধ সংস্কারে অংশ নিচ্ছে। সংস্কার কাজের অগ্রগতি দেখতে উপমন্ত্রী যে কোন সময় ওই এলাকায় আসবেন বলে তিনি জানান। প্লাবিত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।