খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামে দুই দিনের সংঘটিত সহিংস ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় মোট আসামীর সংখ্যা ২৭৪ জন। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামীর সংখ্যা ১৫৪ জন। বাকী আসামিরা হলো অজ্ঞাতনামা। এদিকে ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও প্রতিপক্ষের হামলা ভাংচুর, লুটপাট মামলা এবং পুলিশি হয়রানীর ভয়ে গ্রামটি পুরুষশূণ্য হয়ে পড়েছে।
গত ২৯ মে সন্ধ্যায় বিলে গরুকে ঘাস খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে সংঘর্ষের ঘটনাটি এলাকার মোল্যা বংশ এবং মীর বংশের মধ্যে প্রাচীন কালের বর্বরোচিত গ্রাম্য সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং সীমান্তবর্তী তেরখাদা এবং কালিয়া উপজেলার মোল্যা এবং মীর বংশের লোকজন জড়িয়ে পড়ে।ঘটনার জের ধরে পরেরদিন ৩০ মে সকালে উভয় বংশের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আবারও দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের লোকজন লাঠি, সোড়কি, বল্লম, কোচ, জ্যুতিসহ নানা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষে ১৪ জন আহত হয়। আহতদের অধিকাংশ সোড়কি ও কোচ বিদ্ধ। তাদের অধিকাংশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আহতদের মধ্যে শাহাদাৎ মীরের পুত্র মাহামুদ আলী মীরের (৪০) অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁর অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।
ঘটনার পরের দিন সহিংস এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মীর বংশের পক্ষে মোঃ আতিক মীর বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ৬০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৭০/৮০ জনের নামে দিঘলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নামলা নং ১২ তাং ৩১ /০৫/২০২১। অন্যদিকে ঘটনার ২ দিন পর মোল্যা বংশের পক্ষে সেকেন মোল্যা বাদী হয়ে ২ জুন বুধবার রাতে প্রতিপক্ষের ৯৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৩০/৪০ জনের নামে দিঘলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১ তাং ০২/০৬/২০২১। দুই মামলায় মোট আসামীর সংখ্যা ২৭৪ জন। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি ১৫৪ জন। আর অজ্ঞাতনামা আসামীর সংখ্যা ১২০ জন।
দিঘলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার সরকার বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দিঘলিয়া থানার পৃথক দু’জন এসআই- এর নেতৃত্বে ২ টি পেট্রোল পার্টি এবং সীমান্তবর্তী তেরখাদা এবং কালিয়া থানার ১টি করে মোট ৪ টি পেট্রোল পার্টি এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। তিনি গ্রামবাসীকে কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়া ও কোনো প্রকার ভয়- ভীতির উর্ধ্বে থেকে এলাকায় স্বাভাবিক জীবনে এলাকায় চলাচলের জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।