খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামে বিবাদমান দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৪ জন আহত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, ২৯ মে শনিবার সন্ধ্যায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিলে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর ছুতো ধরে ওই গ্রামের লুৎফর মোল্যা এবং ইদ্রিস মোল্যার সঙ্গে মুকিত মীর এবং মিজান বিশ্বাসের বাকবিত-া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে মোল্যা এবং মীর বংশের সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন বরবর যুগের ন্যায় কোচ, গুপ্তি,রামদা,ভেলা,জ্যুতি,বল্লমসহ নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। হামলায় দুইজন আহত হয়। খবর পেয়ে দিঘলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,বামনডাঙ্গার এ সংঘর্ষ বরবর যুগকেও হার মানিয়েছে। পানির মাছ ও বনের হিং¯্র প্রাণীকে শিকার করার ন্যায় মানুষ শিকার করেছে। যারা এ হামলার সাথে জড়িত তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা দরকার।
পূর্বের দিনের ঘটনার জের ধরে ৩০ মে রোববার সকালে উভয় বংশের লোকজন সঙ্গবদ্ধ হয়ে পূর্বের ন্যায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবারো কয়েক দফা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় উভয়পক্ষের ১০/১২ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে মৃত গফুর মোল্যার পুত্র নজরুল মোল্যা (৬০), মৃত রতন মোল্যার পুত্র আজম মোল্যা (২৮), মৃত গফুর মোল্যার পুত্র তরিকুল মোল্যা (৪৫), মোস্তাক মীরের পুত্র সাইফুল মীর (৩৫), মৃত হেমায়েত মীরের পুত্র শাকুর মীর(২০), শহর আলী মীরের পুত্র নাঈম মীর (২০), ফয়সাল মীর এবং হাসমত মীর উল্লেখযোগ্য। আহতরা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দিঘলিয়া থানা কর্মকর্তা ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত এবং স্বাভাবিক রয়েছে।
দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাহবুবুল আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলীমুজ্জামান মিলন, সহকারী পুলিশ সুপার খুলনা ‘ক’ অঞ্চল মোঃ রাজু আহন্মেদ ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রিপন কুমার সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষেই দিঘলিয়া থানায় মামলা করেনি।