কালের বিবর্তনে দিঘলিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। পুঁজি ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও আধুনিক সামগ্রীর ভীড়ে আবহমান গ্রাম বাংলার এই শিল্পটি হুমকির সম্মুখীন হয়ে শ্রমিকদের জীবনে চরম দুর্দিন নেমে এসেছে।
এক সময় গ্রামবাংলা, শহর-নগরে বেত ও বাঁশ দিয়ে তৈরি নানা সামগ্রীর বেশ কদর ছিল।ধনী গরীব সহ সকল শ্রেণির মানুষ অনায়াসেই বাঁশজাত সামগ্রী ব্যবহার করত।এই শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা তাদের জীবনজীবিকা চালাতো সুখস্বাচ্ছন্দ্যেই।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি জিনিসের চাহিদা কমে গেছে।পাশাপাশি করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ধাক্কায় এ পেশার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে। তাই অভাব অনটনে স্ত্রী, পুত্র-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে তাদের দিন কাটছে। আধুনিক স্টিল,প্লাস্টিক, এলুমিনিয়ামের নিত্যনতুন ডিজাইনের বিভিন্ন সমগ্রীর ভীড়ে বাঁশ ও বেতের তৈরি ঢাকনি,মোড়া,ডালি,টোপা,বাঁশি, ডোল,গোলা,ঝাড়ু,ঝাকা,হাত পাখা,কুলা,চালুন, বেতের তৈরি চেয়ার,কাটা,মোড়া,দোলনা,ধামা,ঝুড়ি, খুচি ইত্যাদি সামগ্রীর টিকে থাকা দায়। স্টিল, প্লাস্টিক লোহার তৈরি সামগ্রী নজরকাড়া ডিজাইনের কিংবা বেশি টকসই হওয়ায় সবাই এখন ঝুঁকছে সেগুলোর দিকে। নজরকাড়া ডিজাইন, বাজার দরও কম হওয়ায় মানুষ বাঁশের তৈরি সামগ্রীর পরিবর্তে তা ব্যবহার করছে। বাঁশ ও বেতের ঝাড় অবাধে উজাড় হওয়ায় বাঁশ ও বেতের মূল্য চরমভাবে বেড়ে গেছে। মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বাঁশজাত দ্রব্যের বাজার দর অনেক কম। তাই পরিশ্রম ও সামগ্রীর যথাযথ মূল্যায়ন না পেয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা অভাব অনটনের মাঝে জীবন যাপন করছে। তবুও তাদের পূর্ব পুরুষের পেশার হাল ধরে আছে। যদিও করোনাকালীন সময়ে কর্মবিমূখ এ শিল্পীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে অথবা তাদের শিল্পকর্মকে উৎসাহিত করার লক্ষে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি।যদিও এ সময় দিঘলিয়ায় খাদ্য ও নগদ অর্থ পর্যাপ্ত পরিমাণ এসেছে।
হাটে বাজারে বাঁশজাত শিল্পের তৈরি নানা সামগ্রী খুব একটা চোখে পড়েনা।তবুও ব্যবসায়িক স্বাচ্ছন্দ্য না থাকা সত্ত্বেও কিছুকিছু বাঁশজাত শিল্পী পেশাটাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।চরম হতাশা আর ব্যর্থতার ভীড়ে যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে বাঁশ ও বেত শিল্পকে আধুনিকায়নের চেষ্টা করছেন। সার্বিকভাবে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য এ পেশার লোকদের সাহায্যে দলিত সংস্থার ন্যায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সকল মহলের এগিয়ে আসা জরুরী।এ ব্যাপারে সেনহাটি ইউনিয়নের পথের বাজার ও দিঘলিয়া ইউনিয়নের পানিগাতীর পরিতোষ দাস,খোকন দাস,গৌর দাস, কালি দাস, প্রদীপ দাস, ববিতা দাস, শুভংকর দাস, সুভাষ দাস,হরিপদ দাস,ডলি দাস,রাধাদাস, উত্তম দাস এবং বারাকপুরের কালীপদ দাস,সুমঙ্গল দাস,শ্মশান দাস,তারক দাস ও দিলীপ দাস এ প্রতিবেদককে জানান, তাঁরা সরকারি সুযোগ- সুবিধা তেমন পান না। করোনার কারণে তাদের মালামাল বিক্রি হচ্ছে না। ফলে তাঁদের দুর্দিন চলছে।তাঁদের এ দুর্দিনে ঢাকার দলিত সংস্থা ছাড়া কেউ এগিয়ে আসেনি।