সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কয়রা-খুলনা সড়ক ভেঙে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। গত শুক্রবার রাতে জোয়ারের পানির তোড়ে সড়কের কালনা শেখবাড়ির সামনে প্রায় একশ মিটার ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে কয়রা সদরের সাথে খুলনাসহ কয়েকটি ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রধান এ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এর দুই পাশে অর্ধ শতাধিক ছোট ও বড় যান বাহন আটকা পড়ে আছে। খুলনা থেকে ত্রাণের কয়েকটি গাড়ীও সেখানে আটকে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে এলাকায়। ওই পানির চাপে সড়কের নীচু অংশ ভেঙে নতুন করে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেখানে গ্রামবাসি বালুর বস্তা দিয়ে উঁচু করেও টিকিয়ে রাখতে পারেনি। এদিকে গত তিন দিনে কয়রা উপজেলার দশহালিয়া বেড়িবাঁধ আটকানো সম্ভব হয়নি। যে কারণে ঐ ভাঙ্গনের পানিতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলকা প্লাবিত হচ্ছে। বাগালী ইউপি চেয়ারম্যান আঃ ছাত্তার পাড় বলেন, দশহালিয়া ভাঙ্গনের পানিতে বাগালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। লবন পানির আগ্রাসনে কয়রা উপজেলার প্লাবিত এলাকার অভ্যন্তরীন রাস্তাঘাট ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে সেখানে রাস্তার উপর পানি বন্দি হয়ে ছোট ছোট ভাঙ্গনে রাস্তার অংশ পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দশহালিয়া বেড়িবাঁধ মেরামত করা না হলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে দুর্গতদের। ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকায় পানিবাহী রোগ দেখা দিয়েছে। ডায়রীয়ার প্রকপ বুদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদীপ বালা বলেন, প্লাবিত এলাকায় সার্বক্ষনিক মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, কয়রা-খুলনার প্রধান সড়কের কালনার ওই অংশে ভেঙে যাওয়ায় তিনটি ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সড়কটি দ্রুত মেরামত না হলে জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন থাকবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কয়রা-পাইকগাছার সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু গত কয়েকদিন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদককে বলেন, দক্ষিন বেদকাশি ও মহারাজপুরের ভেঙ্গে যাওয়া ৫ টি বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে। ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ি বাঁধ মেরামতের ব্যাপারে সবার্ত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে কয়রার পানি আটকানে সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।