খুলনার কয়রায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে সাতটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীর লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে এলাকার খাবার পানি ও ঘর গৃহাস্থলির কাজে ব্যবহৃত পানির উৎস নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্লাবিত ৪০টি গ্রামে এখন খাবার পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানকার লোকজনকে অনেক দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। প্লাবিত এলাকার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার বেশিরভাগ নলূকূপের পানি পানযোগ্য নয়। খাবার পানির প্রধান উৎস পুকুর ডুবে যাওয়ায় পিএসএফ থেকে পানি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখার বড় পাত্রগুলোও খালি পড়ে আছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন মধ্য বিলে অবস্থানরত বাসিন্দারা। তাদের আশপাশে কোথাও শুকনা জায়গা না থাকায় কেউ ভেলায় চড়ে, আবার কেউ লোনাপানি ভেঙে খাবার পানি সংগ্রহের জন্য দুরের গ্রামে পাড়ি জমাচ্ছেন। শুক্রবার সকালে আটরা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সাজেদা খাতুন নামের এক গৃহীনি তার শশুরের সঙ্গে ভেলায় চড়ে খাবার পানি সংগ্রহের জন্য বেরিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রামের সকল মানুষ পাশ^বর্তি একটি পুকুরের পানি পান করাতাম। সেটি ডুবে যাওয়ার পর তিন মাইল দুরের কালনা সরকারি পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করতি হচ্ছে।’ এভাবে ভেলায় চড়ে পানি সংগ্রহ করতে তাদের একদিনের অর্ধেক সময় ব্যয় হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশ^বর্তি জয়পুর গ্রামে গিয়েও একই অবস্থা দেখা গেছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক মফিজুল ইসলাম বলেন, প্লাবিত এলাকা জুড়ে এখন খাবার পানির কষ্ট দেখা দিয়েছে। দূর থেকে খাবার পানি আনার কষ্টে অনেকেই এলাকার নলকুপের আয়রনযুক্ত কষ পানি পান করছেন। এতে অনেক পরিবারে ইতিমধ্যেই পেটের পীড়া দেখা দিয়েছে। ওই গ্রামের গৃহিনী সালমা বেগম বলেন, ‘দুর্যোগের দিন অনেক বৃষ্টি হয়েছিল। তখন অনেকেই পানি ধরতি পারলিও আমরা পারিনি। সে সময় গাঙের পানির তোড়ে সব ভাসায়ে নিয়ে যাবার মত অবস্থা হয়। তখন ঘরের মালামাল ও বাচ্চা-কাচ্চা সামলাতে আমাগের হিমশিম অবস্থা। খাবার পানি ধরবার সমাই পায়নি।’ স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদাৎ হোসেন বলেন, খাবার পানির চাইতে এখন ঘর গৃহাস্থলি ও গোসলের পানির বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে। মানুষ যে করেই হোক খাবার পানি জোগাড় করতে পারছে কিন্তু গোসলের পানি পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে লোনা পানিতেই সে কাজ সারতে হচ্ছে। কয়রা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রীতিশ মন্ডল বলেন, আগে থেকেই এ এলাকায় খাবার পানির সংকট রয়েছে। নলকুপ সফল না হওয়ায় বৃষ্টির পানি ও পুকুরের পানি এখানকার মানুষের একমাত্র ভরষা। তবে দীর্ঘ দিন বৃষ্টি না হওয়ায় সমস্যা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এ সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিসের পক্ষ থেকে প্লাবিত এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বিশুদ্ধ পানি বিতরন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্লাবিত জনগনের মাঝে পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট প্রদান করা হয়েছে।