খুলনার পাইকগাছায় গদাইপুর ইউনিয়নে বাইশারাবাদ বিলে একই জায়গায় ২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০ বছর আগে নির্মাণ আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘরের সামনে নির্মাণ করা হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২। এখানের বাসিন্দাদের অভিযোগ এভাবে একটি ঘরের সামনে আর একটি ঘর নির্মাণ করা হলে চলাচল সহ বসবাসের অনুপযোগী হবে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছেন। বাইশারাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসবাসকারীরা জানান, ২০০০সালে বিলের মধ্যে সরকারি ৯.১১ একর জমি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য নির্ধারীন করা হয়। এর মধ্যে থেকে সেখানে ১.৫০ একর জমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম লম্বা টিনের বেড়া ও ছাউনি দিয়ে ২সারিতে ৬০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। চলাচলের জন্য সারি দুইটির মধ্যে প্রায় ৬০ফুট জায়গা রাখা হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গৃহহীন ৬০টি পরিবারের মধ্যে ঘরগুলো বরাদ্দা দেওয়া হয়। ২০ বছর আগের নির্ণাম ঘর আজও সংস্কার করা হয়নি। ঘর গুলো এখন বসবাসের অনুপযোগী। চলাচলের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গায় আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ আওতায় নতুন করে ২৮টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এভাবে নতুন করে ঘর করায় পুরাতন আর নতুন ঘরে মধ্যে ৫-৬ ফুটের মত জায়গা থাকছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ২৮টি ঘর নির্মাণ করার সময় ঘোষণা দেওয়া হয় আশ্রয় প্রকল্পের বাসিন্দাদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে। কারণ তাদের ঘর গুলো অনেকটা বসবাসের অনুপযোগী হয়েছে। সেজন্য তারা ঘরের সামনে থাকা রান্না ঘর, গাছা-পালা কেটে জায়গা পরিস্কার করে দেন। কিন্তু এখন তাদের বাদ দিয়ে অন্যান্যের দেওয়া হচ্ছে। বাইশারাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম সরদার ও মো. ইউসুফ মোড়ল বলেন, আমাদের ঘরগুলো সেই ২০ বছর আগের। আজ পর্যন্ত সংস্কার হয়নি। টিনের চাল ও বেড়া নষ্ট হওয়ায় বিশটি পরিবার বাইরের বাস করছে। এখন এসে নতুন করে ঘর করা হচ্ছে। নতুন ঘরের সাথে আমাদের ঘরের চাল একেবারে মিশে যাচ্ছে। আমরা চলাচল করবো কি করে। এভাবে ঘর করায় বসবাস করা যাবে না। আশ্রায়ণ প্রকল্পের সভাপতি ও সমেন মল্লিক বলেন, এখানে নতুন ঘর নির্মাণ করার সময় বলা হয়েছিলো এসব ঘর আমাদের দেওয়া হবে। সেজন্য আমাদের ঘরের চারি পাশের গাছপালা কেটে পরিস্কার করে দিয়েছি। ঘরের সামনে ফাঁকা জায়গায় রান্না করতাম, তাও ভেঙে দিলাম। পাশে টয়লেট করে ছিলাম এখন তাও ভেঙে ফেলতে হলো। পাশে আরো জায়গা আছে। সেখানে করতে পারত। গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী জুনায়েদুর রহমান বলেন, নতুন করে ঘর নির্মাণ যেভাবে করা হচ্ছে তাতে পুরাতন ঘরে সামনে আটকে যাচ্ছে। চলাচলে ও বসবাসের খুব সমস্যা হবে। ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে এর একটা সমাধানের চেষ্টা করবো। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, আশ্রায়ণের বাসিন্দাদের যে জায়গা বরাদ্দ পেয়েছে তার বাহিরের জমি তারা পাবে না। জমি মেপে ঘর তৈরী করা হচ্ছে। সেখানে বসবাসের কোনো অসুবিধা হবে না। যারা ওই আশ্রয়ণ এলাকায় বাস করছে তারা এই নতুন ঘর চেয়েছিলো। কিন্তু তাদের দেওয়া হবে না, শুনতে পেয়ে নানা রকম অভিযোগ করছে। দুই ঘরে মধ্যে যথেষ্ট জায়গা আছে। পুরাতন ঘরগুলো সংস্কার করা হবে।