ভরাপূর্ণিমা সাথে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। খুলনার পাইকগাছায় নদ-নদীতে বৃদ্ধি পেয়েছে পানি। ভেঙ্গেছে কয়েক জায়গায় বেড়িবাঁধ। উপচে পড়া পানিতে প্লাবিত করছে নি¤œ এলাকা। এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষায় কাজ করছেন।
প্রায় স্থানে জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে উৎস দিচ্ছেন বাঁধ রক্ষা করছেন। ভাঙন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্দৃষ্ট জানা যায়নি। তবে ভেসে গেছে মৎস্য ঘের, পানের বরজ, পাটক্ষেত সহ ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ির। উপজেলার কপিলমুনির আগড়ঘাটা ও মালতে কিছু অংশ এবং পার্শ্ববর্তী হরিঢালী কপোতাক্ষ নদ তীরবর্তী হাবিবনগর, পাররামনাথপুর, দরগামহল ও মামুদকাটি এলাকা বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে এলাকা। ইউপি চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদার উপস্থিত থেকে বেড়িবাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রম ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা কাজে নেমে পড়েন। প্রাথমিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। হরিঢালী ইউপি সদস্য শেখ ফারুক হোসেন লাকি জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদে অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে ইউপি সচিব বিলাল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্বিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন। কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান জানান, আমার ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদ তীরবর্তী মালত পদ্মপুকুর নামক জায়গায় বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫০-৬০ জনকে সাথে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধটি সংস্কার করি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কয়েক লক্ষ টাকা হবে বলে ধারনা করেন তিনি। ইয়াসের প্রভাবে নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি হওয়ায় লস্কর ইউনিয়নের আলমতলা বাজার সংলগ্ন ভেড়িবাঁধ, কড়-লিয়ার ভেড়িবাঁধ ও বাইনতলা বাজার সংলগ্ন স্লুইচ গেটের ক্ষতিগ্রস্ত ভেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে কাজ করছেন কেএম আরিফুজ্জামান (তুহিন)। এ ব্যাপারে তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো সংস্কারের জন্য তিনি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি আরো জানান, আলমতলা বাজার সংলগ্ন ভাঙ্গন কবলিত ভেড়িবাঁধটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ২৬২কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কৃষি কলেজ প্রকল্প সহ ফোল্ডারের অভ্যন্তরে গ্রামগুলো পানিতে প্লাবিত হবে। গড়ইখালী ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার ওয়াপদার বাঁধে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে দুই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে লাখ-লাখ মানুষ। গত কয়েক বছর ধরে ইউনিয়নে কুমখালী গ্রামের ফকির বাড়ির সামন ১০/১২ পোল্ডারের শান্তা স্লুইচ গেটের সামনে গাংরখি নদীর গেটের দু’পাশ ভাঙ্গনের কারণে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস জানান, অবস্থা খুবই ভয়াবহ আকার ধারন করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি আপাতত জরুরি ভাবে কর্মসৃজন কর্মসূচীর মানুষ দিয়ে বাঁধ রক্ষা করতে বলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন বলেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলে কাজ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথে ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যান সাহেবকে সাথে নিয়ে প্রাথমিক ভাবে ব্যাবস্থা নিয়েছি। স্থায়ীভাবে সমাধান করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। ইউপি ছেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান (তুহিন) অভিযোগ করে বলেন, উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষের জান-মাল রক্ষার্থে টেকসই বেড়িবাঁধের কোনো বিকল্প নেই। যা ঘূর্ণিঝড় ইয়াস চোখে আঙুল দিয়ে আবারও দেখিয়ে দিলো।