দিঘলিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ মহাজন ও বিভিন্ন এনজিও ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে। তারা ঋণ নিয়ে লাভবান হওয়া তো দূরের কথা দিনে দিনে সর্বশান্ত হচ্ছেন।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, সাধারণ মানুষ ঋণ নেয়ার সাথে সাথে সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তি দিতে হয়। আসল টাকাও পরিশোধ করতে হয় কিস্তিতে। অপর দিকে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে অথবা মালমাল নিয়ে সপ্তাহে বা মসে চড়া হারে সুদের টাকা দিতে হয়। গ্রামের সাধারণ কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণি সুদখোর মহাজন ও ব্যবসায়ীদের টাকা, এনজিওদের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে করোনাকালীন লকডাউনের সময় দিঘলিয়া উপজেলার কর্মহীন মানুষ আজ দিশেহারা। বিভিন্ন এনজিও-র একটা কিস্তি পরিশোধ করতে না করতেই তার চিন্তা এসে পড়ে সামনের কিস্তির জোগাড় হবে কি করে? কি বিক্রি করবে? দিঘলিয়া উপজেলার বেশীরভাগ মানুষ দরিদ্র কৃষক ও বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলের বেকার শ্রমিক। এলাকার অভাবী দরিদ্র কৃষক ও শ্রমিক পরিবার কোন উপায় না দেখে সুদে টাকা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে এনজিও-র সাপ্তাহিক কিস্তি ও সুদের টাকা যোগান দিতে হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল, সোনা-দানা, গাছপালা, জমি -জমা, আসবাবপত্র ও ঘরের আসবাবপত্র বন্ধক রাখতে হচ্ছে এবং একপর্যায়ে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।
কেউ কেউ বাড়িঘর ফেলে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। দিঘলিয়ায় নতুন নতুন সমিতি ও এনজিও-র আবির্ভাব ঘটছে। তাঁরা অগ্রীম সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তি জমা নেন। মহাজনরা সুদে টাকা দেয়ার আগে ১০০-১৫০ টাকার সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর /টিপসহি নিয়ে টাকা দেয়।ব্যাংক ঋণ সহজ লভ্য নয়। তাই দিঘলিয়ার অসহায় কৃষক ও কর্মহীন কৃষকরা বাধ্য হয়ে মহাজনদের ও এনজিও-র ঋনের জালে জড়িয়ে পড়ছে।এদিকে করোনাকালীন সময়ে এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও দিঘলিয়ায় কর্মরত এনজিও এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লোন আদায় করছে বলে এনজিও সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সূত্রে জানা গেছে।