পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দাসে ভারানি এলাকায় আবারও আগুন লেগেছে।গতকাল নিভে যাওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থানের দক্ষিন পাশে বুধবার (০৫ মে) সকাল ১০টার দিকে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে আগুনের খবর পেয়ে বাগেরহাট, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌছেছে। আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস বনের মধ্যে কয়েক জায়গায় পানি দিচ্ছে।ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণ আগুন নেভানোর জন্য কাজ করছে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস পানি দিবে। এর মধ্যে যদি আগুন না নেভে বৃহস্পতিবার সকালে আবারও আগুন নেভানোর জন্য কাজ করবে ফায়ার সার্ভিস। এর আগে তিন এপ্রিল বেলা ১২টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের দাসে ভারানি এলাকায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ ও স্থানীয়দের প্রায় ৩০ ঘন্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় আগুন নিভে যায়। এই নিয়ে গেল ২০ বছরে সুন্দরবনে ২৬ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটল।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাগেরহাটের সহকারি পরিচালক মোঃ গোলাম সরোয়ার বলেন, আগুনের খবর পেয়ে আমাদের বাগেরহাট, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছেছি। সোমবার যেখানে আগুন লেগেছিল, এবারের আগুন তার থেকে কিছুটা ভোলা নদীর কাছাকাছি স্থানে। ভোলা নদী থেকে আমরা প্রথমে ২৫টি ডেলিভারী পাইপ লাগিয়ে আগুন লাগার স্থান পর্যন্ত নিয়েছি। পরবর্তীতে আরও ১০টি ডেলিভারি পাইপ দিয়ে আগুনের বিভিন্ন স্থঅনে পানি দিচ্ছি। বর্তমানে আগুনের চার পাশে বেজ লাইন কাটা হয়েছে। আগুন বনের অন্য জায়গায় ছড়ানোর শঙ্কা নেই। তবে বনের মধ্যে শুকনো পাতার পুরো স্তুপ থাকায় বেশি পানি দিতে হচ্ছে। আশা করছি বিকেল ৫টার মধ্যে আমরা সম্পূর্ণ আগুন নেভাতে সক্ষম হব।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অনেক জায়গায় ধোয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু জায়গায় বারবার আগুন জ¦লে উঠছে। যেসব জায়গায় আগুন জ¦লে উঠছে, সেসব জায়গায় ফায়ার সার্ভিস পানি দিচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের সাথে বন বিভাগের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আগুন নেভানোর কাজে অংশগ্রহণ করেছে। যতক্ষন পর্যন্ত আগুন সম্পূর্ণরুপে নিভে না যাবে ততক্ষন পযন্ত বন কর্মীরা দাসের ভারানি এলাকায় অবস্থান করবে বলে জানান তিনি।