খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল গুলো বন্ধ করে দেওয়ায় লক্ষাধিক শ্রমিক আজ বেকার হয়ে পড়েছে। কর্মমূখী মানুষ তাদের কর্মক্ষেত্র হারিয়ে আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কাজ নেই আয় নেই পরিবারে অভাব,অশান্তি।সব মিলে খুলনা শিল্পাঞ্চল সহ দিঘলিয়া উপজেলার অর্থনৈতিক দিকগুলো আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। এদিকে এসকল মিলের কয়েক শত স্থায়ী শ্রমিক ও কয়েক হাজার বদলি শ্রমিক তাদের বকেয়া মজুরী না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবতার জীবন যাপন করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসকল পাটকলে যে সব স্থায়ী শ্রমিক কর্মরত ছিলেন সরকারের পক্ষ থেকে সে সব শ্রমিকদের পাওনা টাকা চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু যে সকল স্থায়ী শ্রমিক জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম বাদে ভিন্ন নামে মিলে অস্থায়ী বা স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে মিলে কাজ করেছে সে সব শ্রমিক এখন পর্যন্ত তাদের বকেয়া টাকা পাননি। ইতোমধ্যে এসকল শ্রমিকেরা তাদের সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে কোর্ট থেকে এভিডেভিড করিয়ে স্ব স্ব মিলে জমা দিয়েছেন।
অপর দিকে খুলনার এ মিল গুলোতে স্থায়ী শ্রমিকের পাশাপাশি কয়েক হাজার বদলী শ্রমিক কাজ করতেন যারা
মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে একদিকে যেমন বেকার হয়ে পড়েছেন,তেমনি তাদের প্রাপ্য বকেয়া না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবতার জীবন যাপন করছেন।
তাইতো কর্মহীন শ্রমিক শ্রেণি বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।তারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের বদলী, অস্থায়ী ও দৈনিকভিত্তিক সহ সকল শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ ও সকল রাষ্ট্রায়ত্ব আধুনিকীকরণ করে চালুর দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি সহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।রাষ্ট্রায়ত্ত পাট কলের বদলী,অস্থায়ী ও দৈনিক ভিত্তিক নিয়োগকৃত শ্রমিকদের আঞ্চলিক কমিটি এ কর্মসূচীর আয়োজক। বদলী শ্রমিকদের আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক মোঃ ইলিয়াস হোসেনের নেতৃত্বে ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আজগর আলী, মোঃ খলিলুর রহমান, শহিদুল ইসলাম গিয়াস, কারাবরনকারী নেতা নুরুল ইসলাম, ঈশা গাজী, আবুল বাসার, হামজা গাজী,আঃ রাজ্জাক,মো ইউসুফ হোসেন, শফিকুল ইসলাম, মনির হোসেন, আলমগীর হোসেন, সুজন, বাচ্চু ব্যাপারী,রাজু শেখ,লাখী বেগম, আলতাপ হোসেন, আঃ সালাম, মর্জিনা বেগম, সুফিয়া বেগম, তাসলিমা বেগম প্রমুখের সহযোগিতায় তাদের বকেয়া টাকার দাবীতে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছেন বলে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়।