বাগেরহাটের চিতলমারীতে রোপা বোরো ফসল ঘরে তুলতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন চাষিরা। কৃষি নির্ভর এলাকার চাষিদের এখন একটাই ভাবনা কিভাবে পাকা ধান ঘরে তুলবেন। নারী-পুরুষ সকলেই সমানতালে ধান কাটার কাজ করছেন। অবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে মাঠের সব ফসল ঘরে চলে আসবে বলে জানালেন চাষিরা।
স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার এলাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অধিকাংশ জমির ধান এখন কাটা শুরু হয়েছে। চাষিদের বাড়িতে এখন মাঠ থেকে ধান এনে মাড়াই ও ঘরে তোলার কাজ চলছে। নতুন ধানের মৌ-মৌ গন্ধে মন ভরছে সকলের। চাষিদের সারা বছরের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে পেরে বেজায় খুশি অনেকে। অবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর অনেকটা স্বস্তিতে বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারছেন চাষিরা।
উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের বোরো চাষি নির্মল ম-ল, বিভাষ ম-লসহ অনেকে জানান, প্রতি বছর বোরো ফসল ঘরে তোলার সময় প্রচুর ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়তে হয়। এতে দুর্ভোগের অন্ত থাকে না।এ বছর অবহাওয়া অনেকটা অনুকূলে থাকায় মাঠ থেকে ধান আনতে চাষিদের খুব বেগ পেতে হচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিটি ধান কাটা শ্রমিকের দৈনিক মুজুরি এক হাজার টাকা দিতে হচ্ছে কিন্তু তবুও পাকা ধান মাঠে রেখে ঘরে বসে থাকতে কেউ রাজি নয়। পাশাপাশি ধানের বাজারদর অনেকটা কমে আসায় তারা চিন্তিত। যাতে তারা ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতু রাজ সরকার জানান, চলতি বছরে চিতলমারী উপজেলায় ১১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের এবং ১৫৫ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। যেখানে সব মিলিয়ে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১ হাজার ৭০৫ হেক্টর। সেখানে হিসাবমতে অতিরিক্ত আরো ২৩৫ হেক্টর বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১১ হাজার ৯৪০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এ বছর বোরোর আবাদ অনেক ভালো হয়েছে। চাষিরা আশানুরূপ ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।