আবাসন প্রকল্প ব্যবসায়ী সদ্য খননকৃত সরকারী খালে বাঁধ দিয়ে জোয়ার-ভাটার পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিচ্ছে। আবাসন প্রকল্পের সাইনবোর্ড টানিয়ে প্লট আকারে জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট বালি দিয়ে ভরাটের অনুমতির আবেদন করেছেন। কিন্তু অনুমতি না পেলেও শুরু করেছেন বালি ভরাট ও খালে বাঁধ দেয়ার কাজ। এলাকাবাসী বাঁধ দেয়া ও কালভার্ট নির্মান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা গুটুদিয়া গ্রামের ভেলকামারি, জিলেরডাঙ্গা, বড়ডাঙ্গা, মির্জাপুর, সজিয়াড়াসহ কমপক্ষে ১০টি গ্রামের পানি নিষ্কাশনের খাল আঁড়োদোয়ানিয়া খাল। এই খালটি ইতোপূর্বে ভরাট হয়ে গেলে তৎকালিন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য নারয়ন চন্দ্র চন্দের একান্তিক চেষ্টায় মৎস্য বিভাগ খনন করে। ফলে বর্ষা মৌসুমে সালতা ও শোলমারি নদী দিয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হয়। এ ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে শোলমারি স্লুইজগেট দিয়ে সালতা নদী হয়ে কোমলপুর স্লুইজ গেট দিযে এই খাল দিযে পানি প্রবেশ করে জিলেরডাঙ্গা স্লুইজগেট দিযে বেরিয়ে যায়। এই পানির উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে কয়েকশত চিংড়ি ও মৎস্য ঘের। খালের পাড়ে অনেকেই মাছের ঘের করে ও সবজির আবাদ করে থাকে। কিন্তু খুলনা শহরের জনৈক ব্যক্তি বুধবার খুলনা সাতক্ষীরা সড়কের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ব্র্যাক হ্যাচারীর সম্মুখের এই খালে পশ্চিম প্রান্তে গাছের গুড়ি বসিয়ে এবং প্রায় ১০০ হাত পুর্ব দিকের বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাস্তা তৈরি করছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী বাঁধ দিতে নিষেধ করলে তারা শোনেনি। পরে এলাকাবাসী ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসারকে অবহিত করেন। তারা কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিলেও তারা প্রথমে কাজ বন্ধ রাখলেও অদৃশ্য শক্তি বলে সেখানে বাঁধ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে মজার ব্যাপর হচ্ছে ওই জমির মালিক খুলনা শহরের বাসিন্দা আবুল ফয়সাল মো: সায়েম গত ৭ এপ্রিল খুলনা জেলা প্রশাসকের দপ্তওে একটি আবেদন করেছেন যে তিনি পতিত জমিতে গরুর খামার করতে চান। সেখানে বালি দ্বারা ভরাট করতে এবং সদ্য খননকৃত খালটিকে নালা উল্লেখ করে কালভার্ট করার অনুমতি চেয়েছেন। কয়েকদিন আগে থেকে ওই জমিতে তাহমিদ এ- আনাস প্রোপার্টিস এবং আবরার প্রপার্টিস নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে প্লট আকারে জমি বিক্রয় চলছে। অথচ ওই বিলে আমন ধান ও বোরো ধান, সবজিসহ নানা কৃষি পন্য উৎপাদিত হয়। জেলা প্রশাসকের নিকট দেয়া ওই দরখাস্তটি উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট মার্ক করা হয়েছে। দরখাস্তে তিনি যে তথ্য উল্লেখ করেছেন সেটি সত্য নয় সেহিসেব তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। কোন রকম অনুমতি না নিয়েই তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে কাজ শুরু করেন।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু বক্কার সিদ্দীক জানান, স্থানীয় জনসাধারণের ধান, মাছ, সবজিসহ কৃষিজ পন্য উৎপাদনে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দিয়ে মৎস্য বিভাগ গত বছর খালটি খনন করে। প্রতিদিন ওই খালে দু’ বার জোয়ার ভাঁটা হয়ে থাকে। খালে বাঁধ দিয়ে নিয়মবর্হিভূত ভরাট করা বা কালভার্ট নির্মান বেআইনী।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মেঅছাদ্দেক হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশ রয়েছে কৃষি জমি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প বা অন্য কোন কোন স্থ্পানা তৈরি করা যাবে না। এটি করা হলে সেটি অপরাধ।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো: আবদুল ওয়াদুদ বলেন, সংশ্লিষ্ট ওই প্রবাহবান খালে কালভার্ট নির্মাণ করার জন্য কেউ আবেদন করেনি। তাছাড়া প্রবাহমান খালে পানি সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা করা দ-নীয় অপরাধ। এমনকি কৃষি জমি ভরাট করার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর নিষেধ রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। খালে বাঁধ দেয়ার খবর পেয়ে ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, প্রবাহমান খালে বাধঁ দেয়া ও কৃষি জমি বালি দিয়ে ভরাট করা দ-ণীয় অপরাধ। এ সম্পর্কে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহি অফিসারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।