খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশের এবার গুরুতর অর্থনৈতিক দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে। এমনকি ঘটনার তথ্য উপাত্ত সাংবাদিকদের হাতে দিচ্ছে ভুক্তভোগীরা। এ পর্বে উঠে এসেছে ব্যবসায়ী নেতাকে লাঞ্চিত করার নেপথ্যে থাকা ঘটনার অন্তরালের কাহিনী। তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এদিকে ব্যবসায়ী নেতার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার তথ্য অনুসন্ধান কালে বেরিয়ে পড়েছে এস আই সঞ্জয় দাশের থোলের বিড়াল। জানায়ায়, সর্বপ্রথম গত ২০২০ সালে প্রথম দেশ করোনা মহামারীর কবলে পড়ে। করোনার ছোবল থেকে দেশের জনগণকে বাঁচাতে সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে লকডাউন ঘোষণা করেন। আর দেশ জুড়ে লকডাউন সফল করতে প্রশাসনিক নির্দেশনা ছিল কঠোর। সে মোতাবেক বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি জুড়েও ছিল তার প্রতিফলন। এ সময় কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশ বাজার অভ্যান্তরে তারই পাহারায় সীমিত পরিসরে দোকান খোলার জন্য ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে গোপণ বৈঠকে বসেন। বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানাযায়, বৈঠক পরবর্তী অর্থনৈতিক সুবিধায় দোকান খোলার আদলে কসমেটিক ব্যবসায়ী সমিতির ফান্ড থেকে গত ইং-৩০/০৪/২০২০ তারিখে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি কে এম রফিকুল ইসলাম অকপটে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত বছর করোনাকালীন লকডাউনে ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশ যে সুবিধা নিয়ে ছিলো, এবারও এমন সুবিধা পাওয়ার বসবর্তী হয়ে মূলত আমার উপর হামলা তারই বহিঃপ্রকাশ। তবে এ বছর করোনাকালীন পূর্ব থেকে ব্যবসায় মন্দার কারণে এবার সমিতির ফান্ড একেবার বলা যায় শূন্য। যার ফলে আমরা এ পুলিশ কর্মকর্তার অনৈতিক আবদার পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। এটাই মনে হয় আমার অপরাধ। কিন্তু আমি কখন একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এটা আশা করিনি। সেদিনের সার্বিক প্রেক্ষাপট আমাকে ভীষণ ভাবে মর্মাহত করেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ ক্ষুদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে এস আই সঞ্জয় দাশের বিভিন্ন অশ্লীলন বক্তব্য শুধুমাত্র ব্যবসায়ী এই নেতাকে নই, এমনকি কপিলমুনি পালপাড়া রোডস্থ হতদরিদ্র চা দোকানী লাইলা বেগমকে ১৬ এপ্রিল সকাল ৬টার দিকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর আগে ১২ এপ্রিল এমন অশ্রাব্য ভাষা গালিগালাজ করেন স্থানীয় এক মহিলা লীগ নেত্রীকে। ঐ মহিলা লীগ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পুলিশ প্রধান (আইজিপি) নিকট অভিযোগ দিয়েছেন। পরিশেষে এ বিষয়ে কপিলমুনি ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্চয় দাশের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নেতাকে লাঞ্চিতসহ সার্বিক ঘটনার বিষয়বস্তু নিয়ে তদন্তে নেমেছে প্রশাসনিক দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম না প্রকাশ শর্তে প্রশাসনিক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তার বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। একই কর্মস্থলে একাধিক বছর থাকার পিঁছনে কোন কুশীলব কাজ করছে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন?