দিঘলিয়া উপজেলার উত্তর চন্দনীমহলে গত বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় আশরাফ হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে ১৭ জনসহ অজ্ঞাত আরো অনেককে আসামি করে দিঘলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।দিঘলিয়া থানার মামলা নং-২, তাং- ১৭/৪/২১ ইং। দিঘলিয়ার চন্দনীমহল এলাকার চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী আশরাফগং দিঘলিয়া উপজেলার একই এলাকার জিয়ার বাড়িতে চড়াও, মারামারি,ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি করে কয়েকজনকে আহত করে। তাদের চিৎকার শুনে লোকজনলাঠিশোটা নিয়ে ছুটে আসলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ৩০/৩৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে শাহজাহান গাজীর(৫৫) অবস্থা আশংকাজনক।আহতরা সবাই
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এদিকে আশরাফ মোল্লার পক্ষ থেকে দিঘলিয়া থানায় ১৭জনসহ অজ্ঞাত আরোঅনেকের নামে মামলা হয়েছে। এদিকে আশরাফ মোল্লা বাদী হয়ে মামলা করার পর জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যে ব্যক্তি হত্যা মামলার কারণে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও ৫বছর ধরে শপথ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, সে ব্যক্তি কিভাবে ইউপি সদস্য পদে মনোনয়ন পেল এবং কি করে বাদী হয়ে থানায় মামলা করে?
সংশ্লিষ্ট ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দিঘলিয়ার উত্তর চন্দনীমহলের জিয়াউর রহমানকে হত্যার চেষ্টা ও তার মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারার ব্যাপারে আশরাফ গংদের বিরুদ্ধে দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা নিয়েই এ সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।সংঘর্ষে রাস্তার ইট লাঠিশোটা ও অস্ত্র ব্যবহার করে।এলাকাবাসী সূত্রে আরো
জানা যায়, আশরাফ মোল্লা, আকরাম ওরফে আঁকা ও মোজাফফর গং এলাকার চিহ্নিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র রাখা ও ব্যবহার,চুরি,ডাকাতি, শান্তিপূর্ণ জনপদে হামলা ও রামদা এবং আগ্নেয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়াসহ নানা অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। এলাকার মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। কেউ ভয়ে এদের
বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না।
ঘটনার ব্যাপারে মুঠোফোনে জিয়াউর রহমানের সাথে এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি জানান,তার মাছের ঘেরে আশরাফ মোল্লা গং তাকে হত্যা চেষ্টা ও মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের ব্যাপারে দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করার কারণে আশরাফ মোল্লার নেতৃত্বে ২০/২৫ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী নিয়ে তাঁর বাড়ি সহ অন্যান্য বাড়িতে চড়াও হয়। এ সময় এলাকার লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে তারা তাদের লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত ইট -পাটকেল ছুড়ে এবং ৪ রাউন্ড গুলি করে। গুলি ও ইটের আঘাতে শাহজাহান গাজী(৫৫), সাঈদ সরদার(৪৮),তবিবর সরদার(২৬), মুসা গাজী(২২),আব্বাস মোল্লা (২২), বেলায়েত মোল্লা (৩৬), হান্নান মোল্লা (৪৮) সহ ২০/৩০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুলিতে আহত শাহজাহান গাজীর অবস্থা আশংকাজনক। এ ব্যাপারে আশরাফ মোল্লার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এব্যাপারে দিঘলিয়া থানার ওসি তদন্ত এপ্রতিবেদককে জানান, এক পক্ষের মামলা হয়েছে। মামলা আরও একটা হতে পারে। প্রকৃত অপরাধীকে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে।