“লকডাউনে কার দোকান খোলা থাকবে, আর কার দোকান খোলা থাকবে না সেটা আমার ব্যাপার” এমন দম্ভোক্তি খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশের। আর করোনাকালীন এ লকডাউনকে পূঁজি করে কপিলমুনি বাজার ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে অর্থ বাণিজ্য, অসৌজন্যমূলক ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশ ও কনস্টেবল ব্যাচ নং-১০১৪, মীর ফুরকান আলীর বিরুদ্ধে। এ ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশ জমি দখল দেওয়া, দল ও মহিলা লীগ কর্মী এবং এমনকি সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করেন না। ভুক্তভোগী মানুষ প্রধানমন্ত্রী ও মহাপুলিশ পরিদর্শক (আই.জি.পি) নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সম্প্রতি সময়ে করোনা মহামারীতে সারাদেশব্যাপী সর্বাতœক লকডাউন কর্মসূচীর অংশ অনুযায়ী বাণিজ্যক শহর কপিলমুনি বাজার ঘিরে চলছে লকডাউন। এলাকার শান্তি প্রিয় জনসাধারণ ও বাজার ব্যবসায়ীরা পুঙ্খানুপুঙ্খ লকডাউন পালন করছেন। এরইমধ্যে প্রথমদিন অতিক্রম করে ১৫ এপ্রিল লকডাউনের দ্বিতীয় দিন চলছিল। বারটি ছিল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১.৩০ মিনিটের দিকে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশ ও কথিত (ওসি) খ্যাত কনস্টেবল মীর ফুরকান আলী আকস্মিক ভাবে কপিলমুনি বাজারে লকডাউন সফল করতে ঝটিকা অভিযানে নামে। এরপর কসমেট্টিক পট্টিতে অবস্থিত বন্ধ রফিক ষ্টোর এ- খেলা ঘরের সামনে ঐ দোকান কর্মচারীর সাথে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায় খবর পেয়ে দোকান মালিক সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে বাঁধে-বিপত্বি। এ সময় দোকান মালিক রফিকুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে কনস্টেবল মীর ফুরকান আলী। একপর্যায়ে দোকানে সামনে থাকা ফ্লেক্সিলোডের ক্যাশ টেবিল লাথি মেরে ফেলে দেয় সে। তাৎক্ষণিক সেখানে উপস্থিত ব্যবসায়ী ও পথচারীরা হতভম্ব হয়ে পড়ে। তবে ঠিক কি কারণে বাজার ব্যবসায়ীদের সাথে স্থানীয় পুলিশের এমন আচরণ তা গোপণ তথ্য অনুসন্ধান কালে উঠে এসেছে ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশ ও কনস্টেবল ফুরকান আলী সম্পর্কে নানা অজানা কাহিনী। জানাযায়, গত বছর করোনাকালীন লকডাউনে কপিলমুনি বাজার ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে বিভিন্ন ধরণের অনৈতিক সুবিধা নিয়েছিল ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশ ও কনস্টেবল মীর ফুরকান আলী। যার ফলে এবারও করোনা মহামারীতে কপিলমুনি বাজার ব্যবসায়ীদের কাজ থেকে পূর্বের ন্যায় অতি সিক্রেটভাবে কিছুকিছু দোকানীর কাছ থেকে একই সুবিধা নিচ্ছেন। যে দোকানী তাদের অনৈতিক সুবিধা দিচ্ছেন না, সেসব দোকানীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে কঠোর পদক্ষেপ। এমনকি সুযোগ বুঝে তাদের সাথে অসদাচরণ করা হচ্ছে। এক কথায় এ দু'ই পুলিশ সদস্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বাজারের ব্যবসায়ীসহ অত্র এলাকাবাসী। তবে সর্বপরী এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই সকলে। এ মর্মে উপর্যুক্ত ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও কসমেটিক্স সমিতির সভাপতি কেএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনারদিন আমার দোকানের কর্মচারী নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ক্রয়ের জন্য দোকানের সামনে এসে সাইকেল রেখে দাঁড়িয়ে ছিল। এমন সময় কনস্টেবল ফুরকান ও ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশ এসে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার কর্মচারীকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি জানতে চাইলে আমাকে এরেস্ট করে নিয়ে গিয়ে সরকারী কাজে বাধা দেওয়া সংক্রান্ত মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে আমার দোকানের সামনে থাকা ফ্লেক্সিলোডের ক্যাশ টেবিলটি লাথি মেরে ফেলে দেয় কনস্টেবল মীর ফুরকান আলী। আমি অবাক হই, যেখানে সমগ্র পুলিশ বাহিনী দেশ ও জনগণের সেবাই সর্বদা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সেখানে একজন কনস্টেবল কর্তৃক আমাদের উপর এমন আচারণের বিষয়টি ব্যবসায়ী মহলকে মর্মাহত করেছে। আমি জানিনা কোনো অশুভ শক্তি বলে তার এমন আচারণ। তিনি আরও বলেন, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী পাইকগাছা থানা ইনচার্জ মোঃ এজাজ শফি সার্বক্ষণিক করোনা মহামারী থেকে পরিত্রাণ পেতে সাধারণ জনগণের মাঝে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ সহ জনসচেতনামূলক কর্মকা- নিরলস ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন সময়ে কপিলমুনি ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশ সরকারী নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে কপিলমুনি বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনতে আসা ক্রেতাদের মুখে মাস্ক পরিধান না থাকলে ১০০ টাকা করে অলিখিত জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে পরিশেষে এঘটনাটি তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাইকগাছা থানা ইনচার্জ এজাজ শফী ও খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাজার ব্যবসায়ী, এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। এর আগে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশ প্রভাবশালী পক্ষ নিয়ে স্থানী এক সাংবাদিকের পৈত্রিক বসত বড়ি জায়গা দখল দেওয়া, আওয়ামী লীগ দল ও এক মহিলা লীগ কর্মী সম্পর্কে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, অসৌজন্যমূলক ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পুলিশ প্রধানের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। এ প্রসঙ্গে কপিলমুনি ফাঁড়ি ইনচার্জ সঞ্জয় দাশের ব্যবহৃত মুঠোফোন (০১৭৩৬-৫৮৭৬৪৬) নম্বরে ১৬এপ্রিল বিকেল ৫টায় সাংবাদিকরা একাধিক বার যোগাযোগ করলেও নম্বর ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।