গোটা বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সাধারণ মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করছে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। দিঘলিয়াবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে করোনার হাত থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা। দিঘলিয়াউপজেলা প্রশাসন ও দিঘলিয়া থানা পুলিশ এ ব্যাপারে মাঠে নেমে পড়েছেন। মাক্স বিতরণ সহ মানুষের মাঝে নানা কৌশল নিয়ে কাজ করছেন। তবুও যেন দিঘলিয়ার মানুষের মধ্যে সচেনতার অনুপস্থিতি। প্রতিদিন বাড়ছে নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল হোসেন জনগনের উদ্দেশ্যে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর থেকে দিঘলিয়া উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। দিঘলিয়া উপজেলার জনসংখ্যার বড় একটি অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল, বেসরকারি পাটকল ও দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। ইতোমধ্যেই সরকারি জুটমিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিগত কয়েকমাস যাবৎ এই জনপদে বেকরত্বের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও আসন্ন লকডাউনে পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন যাপন করতে হবে এই জনপদের শ্রমজীবী পরিবারগুলোকে। খুলনা শহরে রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি, অটো সহ পরিবহণ শ্রমিক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বসবাস করে শহর লাগোয়া দিঘলিয়ার এই জনপদে। এসব খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা কিভাবে এই লকডাউন পরিস্থিতিতে পরিবারের মুখে আহার তুলে দিবেন।সিরাজ নামে একজন রিক্সা চালক বলেন গত করোনায় পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। এবার যদি সেই পরিস্থিতি হয় তাহলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না। উপজেলার ফরমাইশখানা,সেনহাটি, চন্দনীমহল, দেয়াড়া কলোনি এলাকায় বেশিরভাগ খেটে খাওয়া মানুষের বসবাস। নতুন করে করোনার সংক্রমণ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় এসব জনপদের মানুষকে ইতোমধ্যে ভাবিয়ে তুলছে। শফিকুল ইসলাম ও শহিদ খুলনা মহানগরীর ইজিবাইক চালক। দিঘলিয়ার ফরমাইশখানা তাঁদের বসবাস।তাঁরা এ প্রতিবেদককে জানান, গতবছর করোনাকালীন কর্মহীন মানুষের মাঝে সরকারি সাহায্য খাদ্য দ্রব্য ও নগদ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নে নানা অনিয়মের কারণে ত্রাণের সুবিধা যথারীতি মানুষ পায়নি। তবুও এলাকার সমাজসেবী ব্যক্তিবর্গ সেদিন ঘরে বসে থাকেন নি। তাঁরা তাঁদের সাধ্যাতিত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় খেটে খাওয়া মানুষদের তালিকা করে সরকারের পক্ষ থেকে ও এলাকার সচ্ছল ব্যক্তিদের সহযোগিতার হাত বাড়ানো হবে এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।