খুলনার পাইকগাছায় সোলাদানা ইউপি নৌকা প্রার্থী আঃ মান্নান গাজী স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হক এর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৭ মার্চ সকালে বেতবুনিয়া মাদরাসা মোড়ে আমার নির্বাচনী অফিসের সামনে গন্ডগোল সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত সুকৌশলে এনামুল চেয়ারম্যানের কর্মী টিক্কা সহ অন্যরা আনারস প্রতিকের পোষ্টার লাগাচ্ছিল। এ সময় আমার কর্মীরা অফিস থেকে একটু দূরে পোষ্টার লাগানোর কথা বললে টিক্কা ও তার লোকজন বিতর্কে জড়িয়ে উত্তেজণার সৃষ্টি করে। এ ঘটনা মোবাইলে জানতে পেরে এনামুল হক বহু মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিন চালিত ভ্যানে করে বহিরাগত লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছিয়ে আমার ও কর্মীদের উদেশ্যে গালিগালাজ শুরু করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে। মান্নান গাজী অভিযোগ করেন, এ সময় চেয়ারম্যান এনামুল উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। এ মুহুর্তে আমার ভাই রবিউল গাজী ও কর্মীরা প্রতিবাদ করলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এ সময় নৌকার কর্মী সালাউদ্দীন সানা, মুছা, রবিউল সহ ২০-২৫ জন রক্তাক্ত জখম হয়।
এ ঘটনাটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্দ মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। একপর্যায়ে দু'পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে বহুলোক জখম সহ ঘরবাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিযন্ত্রন করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রতিপক্ষের ১১টি মোটরসাইকেল ও বাঁশের লাঠি জব্দ করেছেন।
সোমবার সোলাদানা ইউপি'র আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী আঃ মান্নান গাজী সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু, সম্পাদক জেলা পরিষদ সদস্য শেখ কামরুল হাসান টিপু, জেলা জেলা আ.লীগ সদস্য শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত, উপজেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি সরদার মহসীনুর রহমান, সম্পাদক নির্মল কান্তি ঢালী, আ.লীগ নেতা প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, পঞ্চানন সানা, আয়ুব আলী ও যুবলীগ নেতা এমএম আজিজুল হাকিম প্রমুখ।
পুরো ঘটনার জন্য চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হককে দায়ী করে সংবাদ সম্মেলনে নৌকার প্রার্থী মান্নান গাজী আরোও জানান, সে একজন গোয়েন্দা পুলিশের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত ও তার বাহিনীর নামে খুন, চাঁদাবাজি সহ একাধিক মামলা আদালতে বিচরাধীন রয়েছে। এর পরেও ইউপি নির্বাচনে বিএনপি ভোট বর্জন করলেও পিছন থেকে এনামুলের পক্ষে জেলা বিএনপি'র সভাপতি-সম্পাদক বেতবুনিয়ার ঘটনায় মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন।