খুলনায় পাইকগাছায় পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমার্থক ও বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম এনামুল হকের সমার্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে চেয়ারম্যানসহ প্রায় ২৫জন আহত হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে বাড়িঘর ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল। পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যানপ্রার্থী এসএম এনামুল হকের সমর্থকরা বেতবুনিয়া মাদ্রাসা মোড়ে পোস্টার লাগাতে গেলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মান্নান গাজীর নেতৃত্বে তার কর্মী-সমর্থকরা তাতে বাঁধা প্রদান করে। খবর পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক ৩০-৪০টি মোটর সাইকেলে সমর্থক নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মারধর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রাম থেকে লোক জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা স্থানীয় বেতবুনিয়া গ্রামের লাভলু গাজী ও তার বোন মনিরার বাড়িতে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে নৌকা প্রতীকের ৩০০-৪০০ কর্মী-সমর্থক লাভলু ও মনিরার বাড়িঘর ভাঙচুর এবং চেয়ারম্যান এনামুল, তার সমর্থক শামীম, কিশোর কুমার মন্ডল ও মুজিবুর রহমানসহ ২০-২৫জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗঁছে ১০ রাউ- ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, শামীম, কিশোর কুমার মন্ডল ও মুজিবুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ প্রহরায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে দুপুর ১টার দিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মান্নান গাজীর সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী চারবান্ধা গ্রামের অমল ঢালীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় অমল ঢালী, দীপ্তি ঢালী, পুষ্পিতা ঢালী ও শ্যামল ঢালীসহ ৪জন আহত হয়।
নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা জানান, স্বতন্ত্রী প্রার্থী এনামুল হকের সমর্থকরা প্রথমে পোস্টার ছিড়ে ফেললে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মান্নান গাজীর মোবাইল ফোনে কয়েক বার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এজাজ শফী জানান, ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত হাফিজুর রহমান, রফিক ও অহেদ আলীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।