দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশ খানা গ্রামের রাকিব মোল্লা একজন নতুন কৃষক। গত বছর বর্ষা মৌসুমে তাঁর নিজস্ব ১ একর জমিতে ধান চাষের মাধ্যমে কৃষি জীবনের শুরু হয়েছে। ধানের ফলনও ভালো হয়েছিল। তিনি
ধান কেটে জমিতে খেসারী ও মোটর কলাই বোপন করেন। দিঘলিয়ার মানুষের কলাই শাক খুব প্রিয়। তাই তিনি কলাই শাক জমি থেকে কেটে বিক্রয় করেন,আত্মীয় -স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরণও করেন। নিজের পরিবারের জন্য ও নিয়ে যান। তিনি একজন ব্যবসায়ী।তাঁর ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিকাজ শুরু করেন।এবছর তিনি কৃষক হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় কৃষি কার্ড লাভের জন্য দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি দপ্তরে কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। এবার তিনি পুরোদমে ধান চাষের জন্যে নেমে পড়েন।জমিতে সেচ সুবিধার জন্য মটর সহ স্যালো মেশিন স্থাপন করেছেন। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে ধানের বীজ সংগ্রহ করেছেন। ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে ইতোমধ্যে ধান রোপন করেছেন।তিনি কৃষি দপ্তর থেকে যে পরিমাণ বীজ সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন তা ছিলো তাঁর প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তাই তাঁকে তাঁর চাহিদা পূরণে ধানের চারা বিভিন্ন হাট থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে। তিনি ধান চাষ করেছেন তাঁর নিজস্ব ১ একর জমিতে। ফসলও ভালো হয়েছে। তিনি প্রতিদিন ২/৩ বার করে তাঁর জমিতে আসেন।তিনি তাঁর জমিতে নিয়মিতভাবে পানি সেচ, জৈব সার ব্যবহার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। ধান গাছের চেহারা ও ভালো হয়েছে। নতুন কৃষক রাকিব এ প্রতিবেদককে জানান, যদি কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ না ঘটে তবে তিনি তাঁর জমিতে বাম্পার ফলনের আশা করছেন।দিঘলিয়ায় বোরো ধান চাষের ব্যাপারে দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবদুস সামাদ এ প্রতিবেদককে জানান, এ উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৮৭৫ হেক্টর জমিতে। বোরো ধান চাষ করা হয়েছে ৪৯০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের সম্বব্য লক্ষ্য মাত্রা ৩৫১৩৭ মে.টন।দিঘলিয়ার কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। কোনো প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে দিঘলিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে। তবে দিঘলিয়া উপজেলার প্রকৃত কৃষকরা জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণে ও সার বিতরণে নানা অনিয়ম হয়।