বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানের উদ্যোগে পাল্টে গেল ২০ শয্যা হাসপাতালের চিত্র। হাসপাতালের ভেতরে এবং বাইরে চেহারায় যেন পাল্টে গেছে। অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে হয়েছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঝকঝকে।
শনিবার সকালে হাসপাতাল চত্বরে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মেয়র আনিছুর রহমান। এ সময় কাউন্সিলর আবু সাইদ মিলন উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০১-২০০২ অর্থবছরে পৌর শহরে ২০ শর্য্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে (নির্মাণ ও রক্ষাবেক্ষন ইউনিট-সিএমএমইউ) হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণ সহ আনুষঙ্গিক খাতে ব্যায় হয় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০০২ সালে হাসপাতালটির ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন এবং নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ২০০৫ সালে এর অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আটকে যায়। জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহুর্তে তড়িঘরি করে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক সাংসদ ডা: জিয়াউল হক মোল্লা। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছরেও জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি। ফলে হাসপাতালের বিশাল ক্যাম্পাস জুড়ে ঘাস ও বিভিন্ন গাছ-জঙ্গল গজায়। যার ফলে আবাসিক ভবনগুলো নষ্ঠের পথে।
হাসপাতালটির চালু না হওয়ায় তা এলাকাবাসীর কোন কাজে আসছেনা। ব্যবহার না করায় হাসপাতালের বিছানা ও আসবাবপত্রে ধুলাবালির আস্তরণ জমে। ঘুনপোঁকা ভবনের দরজা-জানালায় বাসা বাঁধায় খুলে পড়ছে দরজা জানালার কপাট। ঠিকমতো নজরদারি না থাকায় হাসপাতালটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। তবে বর্হিবিভাগ চালু থাকলেও তা চলছিল মন্তর গতিতে। এখন ক্ষমতাসীন দলের মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় পাল্টে গেল আগের চিত্র। সদ্য নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আনিছুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নির্বাচিত হলে ২০ শয্যা হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্নসহ নিয়মিত রোগী দেখার ব্যবস্থা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করলেন তিনি। পুরো হাসপাতালের ক্যাম্পাসের চিত্র পাল্টে গেছে। করা হচ্ছে আলোকসজ্জা।
নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান জানান, হাসপাতাল জুড়ে ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এতে করে একদিকে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেলো, অন্যদিকে মশার বংশ বৃদ্ধি হ্রাস পেলো। এ ছাড়া পৌরসভার উদ্যোগে ২০ শয্যা হাসপাতালে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে। পাশাপাশি বর্হিবিভাগ (আউটডোর) চালু রয়েছে। এখন নিয়মিত রোগীরা সেবা পাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, নিশ্চিয় ভাল উদ্যোগ নিয়েছেন মেয়র সাহেব। আমি তাকে স্বাগত জানাই। আউটডোর চালু রয়েছে। এলাকার মানুষেরা নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন।