বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমাগাছী ইউনিয়নের ধামাচামা গ্রামে বিধবা তাপসী খাতুন, ভাসুর, দেবর ও ননদদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তারা বিধবা তাপসীকে নিজ শয়ন ঘরেও ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় শালীস সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত মহসিন আলীর মেজো ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ২০০১ সালে একই গ্রামের মোঃ আনিছুর রহমানের মেয়ে তাপসী খাতুনকে ভালবেসে বিয়ে করে। তাপসীকে বিয়ের পর ভাসুর, দেবর ও ননদেরা এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। জাহাঙ্গীর আলম উপায় না পেয়ে একই গ্রামে আলাদা জমিতে সেমি পাকা বাড়ী তৈরী করে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ ২৪বছর সৌদি প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম ২০২০ সালের প্রথম দিকে ছুটিতে দেশে আসেন। আসার পর পরই তিনি ডায়বেটিস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং গত ৭ই ফেব্রুয়ারী বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রায় ২০বছর বৈবাহিক অবস্থা কাটালেও তার কোন সন্তানাদি হয়নি। নিঃসন্তান জাহাঙ্গীর আলমের রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে বর্তমানে স্ত্রী তাপসী ও ওই সব স্বজনদের মধ্য দ্বন্ধকলহ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে শুক্রবার সকালে বাড়ির উঠানে শালিস বৈঠক হলেও কোন সমাধান হয়নি।
শালিসের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান বলেন, আগামী ৭দিনের মধ্য আরেকটি শালিস বৈঠক করে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
অপর দিকে ্ওই শালিসী বৈঠকের পর পরই ভাসুর ছরোয়ার, দেবর রেজাউল করিম ও ননদ সুফিয়া বেগম ও আনজুমনোয়ারা বেগম নাইচ তাপসীর শয়ন ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
বিধবা তাপসী খাতুন (৪২) বলেন, ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে তারা প্রাণনাশ করার হুমকি, ধামকি দিচ্ছে। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ধুনট থানায় অভিযোগ দায়ের প্রস্তুতি চলছে।
ননদ আনজুমনোয়ারা বেগম নাইচ বলেন, যেহেতু আমার ভাইয়ের কোন সন্তানাদি ছিল না। সে জন্য তার বাড়িতে থাকার অধিকার নেই।
ক্যাপসন- বগুড়ার ধুনট উপজেলার ধাপাচামা গ্রামে বিধবা তাপসী নিজ ঘরে ঢুকতে না পেরে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।