খুলনার পাইকগাছা কপিলমুনি ইউনিয়নে ৬টি গ্রামে পানি সরবরাহের একমাত্র মাঠখালী খাল বাঁচানোর দাবী করেছে এলাকাবাসী। খালটিকে গলা টিপে ছোট ড্রেনে পরিণত করা হয়েছে। প্রায় ৯০ ফুট চওড়া খালটি শাসন করে ১৫ ফুট রাখা হয়েছে। ফলে সেচ কাজে চরম ব্যাঘাত সহ বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ হয়ে পানিবন্ধি হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকার হাজার হাজার মানুষ। খালটি বাঁচিয়ে রাখতে জরুরী পদক্ষেপ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। জেলা প্রশাসক কাছে গণ দরখাস্তের অভিযোগে সরেজমিনে দেখাযায়, উপজেলার মাঠখালী থেকে কামারাবাদ ওয়াপদা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খালটির মাত্র ১৫ ফুট রেখে ১০ ফুট চওড়া নতুন কেয়ারের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। আর এ রাস্তা নির্মাণের ফলে এলাকাবাসীর ভাগ্যদেবী এই খালটিকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পুরাতন কেয়ারের রাস্তাটি সংস্কারের জন্য পৃথক দুটি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হলেও তা সংস্কার না করে বরং খালের বুকচিরে নতুন কেয়ারের রাস্তা নির্মাণ করায় বিষ্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন এলাকাবাসী।
উপজেলার কাজিমুছা গ্রামের আজিজুল গাজী জানান, খালের পাড় বরাবর বহু সংখ্যক প্রভাবশালী জমি মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন কেয়ারের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। মালথ গ্রামের আজিজুল গাজী জানান, খালটি সংকীর্ণ করে রাস্তা নির্মাণের ফলে খালের সিংহভাগ প্রায় শতাধিক বিঘা সরকারী মূল্যবান জায়গা স্ব=স্ব জমি মালিকদের দখলে চলে গেছে। বিনিময় তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে হাজার হাজার টাকা। কাজিমুছা গ্রামের সিরাজুল জানান, খালটি এলাকার মানুষের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। শুধু পানি নিষ্কাশন নয়, এলাকার হতদরিদ্র মানুষ এই খালের মাছ ধরে জীবন জীবীকা নির্বাহ করতো। একই গ্রামের খায়রুল জানান, জনস্বার্থ বিরোধী এ কাজে প্রতিবাদ করলে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ও ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মিন্টু মোড়ল হামলা ও মামলার ভয় দেখান। ফলে এলাকাবাসী এ কাজে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।
জানাযায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পুরাতন কেয়ারের রাস্তাটি সংস্কারের জন্য পৃথক দুটি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়। ২০১৯ সালে প্রথম প্রকল্পটি ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দীন গাজী পুরাতন কেয়ারের রাস্তাটি সংস্কার প্রকল্পের সভাপতি হিসাবে ওয়াপদা থেকে মাঠখালী বিল অভিমুখে ১২ চেইন নতুন কেয়ারের রাস্তা নির্মাণ করেন। ২০২০ সালে বাকি প্রায় ২ কিলোমিটারের বেশি পুরাতন রাস্তাটি সংস্কারে প্রকল্প সভাপতি হিসাবে দ্বায়িত্ব পান ইউপি সদস্য মিন্টু মোড়ল। খালটি সরু করে পুরাতন রাস্তা বাদ দিয়ে নতুন কেয়ারের রাস্তা নির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দীন গাজী জানান, আমার প্রকল্পে যতটুকু রাস্তা নির্মাণ করেছি তা টেঁকসই ও খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশনে কোনো অন্তরায় হবে না। তিনি আরো জানান, পুরাতন কেয়ারের রাস্তাটি পার্শ্ববর্তী জমি মালিকরা কেটে দখলে নেয়ার ফলে রাস্তার অস্তিত্ব ছিলো না বিধায় খালের মধ্যদিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করতে হয়েছে। ইউপি সদস্য মিন্টু মোড়ল জানান, খালের মধ্যে কোনো রাস্তা করা হয়নি এবং খাস জমি দখলদারদের কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা নেয়া হয়নি। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে তিনি বলেন, খালটি খননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী জানান, খালটির সাথে আমাদের ব্াচা মরার সম্পর্ক। তাই এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর গণ দরখাস্ত দিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মানববন্ধন সহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে তারা জানান।