সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পরই নানা অভিযোগে বাতিলের দাবীতে মাঠে নেমে পড়েছিল ছাত্রদলের একাংশের নেতা কর্মীরা। ৪৮ ঘন্টা পর ২১ সদস্যের মধ্যে পদত্যাগ করে বসেন ১৪ জন। অবশেষে গত মঙ্গলবার মাত্র ১৪ দিন পরই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক সভায় সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। বিকেলে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল স্বাক্ষরিত কমিটি বিলুপ্ত সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। আনন্দে ভাসতে থাকেন আন্দোলনকারী ছাত্রদলের একাংশের নেতা কর্মীরা। দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ এক বছরেরও অধিক সময় পর গত ২৪ ফেব্রƒয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর ২১ সদস্যের সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এতে আ.লীগ নেত্রী বেবী ইয়াছমিনের ছেলে রিফাত বিন জিয়াকে আহ্বায়ক মো. আমান উল্লাহকে করা হয় সদস্য সচিব। রিফাতের বিরূদ্ধে আ.লীগ ঘড়ানা, অছাত্র, নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি ও বিবাহিতের অভিযোগে ওইদিনই বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে ছাত্রদলের একাংশ। আর এলাকার বাহিরে অবস্থানকারী আমানের বিরূদ্ধে ছিল আদম ব্যবসার অভিযোগ। আন্দোলন প্রতিবাদ চলাবস্থায় গঠনতন্ত্রকে অমান্য করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার অভিযোগে ওই কমিটির ১৪ জন সদস্য লিখিত পদত্যাগপত্র জমা জেলার সম্পাদকের নিকট। সম্পাদক ফুজায়েল চৌধুরী পদত্যাগপত্র প্রাপ্তি নিশ্চিত করে কেন্দ্রে প্রেরণের কথা স্বীকার করেন। গত ৯ মার্চ মঙ্গলবার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরাইল ছাত্রদলের সেই কমিটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আহ্বায়ক কমিটির দৃশ্যমান কোন কার্যকারিতা না থাকায় বিলুপ্ত করা হয়েছে। সেই সাথে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণের মাধ্যমে বিলুপ্ত ইউনিটের নতুন আহ্বায়ক কমিটি পূনর্গঠন করা হবে। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক পদপ্রার্থী মোস্তাক আহমেদ রিগান ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির (বিলুপ্ত কমিটি) যুগ্ম আহবায়ক-২ মোস্তাকিমুর রহমান বলেন, আশ্চর্য্যরে বিষয় হচ্ছে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ৫ বারের এমপি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া ৯০ বছর বয়সে কিভাবে দুই বিয়ে করা রিফাতকে অবিবাহিতের প্রত্যয়নপত্র দিলেন? রিফাতের ওই বিয়ের উকিল পিতা হচ্ছেন সাত্তার ভূঁইয়ার ছেলে মাঈনুল হাসান তুষার। আর স্বাক্ষী হচ্ছেন সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সম্পাদক আবদুল জব্বার। তুষার উকিল পিতা হওয়ায় সাত্তার ভূঁইয়াকে রিফাত নানা ডাকেন। ছাত্রদলের সাংগঠনিক টিমের কুমিল্লা বিভাগীয় প্রধান মো. জাকির হোসেন সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার সাথে পরামর্শ করেই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিলুপ্তির কারণ জানতে কেন্দ্রীয় সভাপতি সম্পাদকের সাথে কথা বলুন। উনারাই ভাল বলতে পারবেন। প্রত্যয়নপত্রের বিষয়ে কথা বলতে এমপি উকিল আবদুস সাত্তার ভূ্ইঁয়ার মুঠোফোনে (০১৭১১-১৬৭২৫৪) চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।