দিঘলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজ মোল্লার রিরুদ্ধে আবারও সরকারের বরাদ্দকৃত গভীর নলকূপ বিতরণের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি কতৃপক্ষের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে, ইউপি সদস্যদের বাদ দিয়ে নিজস্ব লোকদের দিয়ে সেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে তালিকা প্রনয়ন করেছেন। এতে করে প্রকৃত উপকার ভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। উল্লিখিত অভিযোগ তুলে ইউনিয়নের তিন (৩) জন মেম্বর চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহনের দাবি জানিয়ে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।অভিযোগ কারীরা হলেন ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য এ বি এম আতিকুল ইসলাম, ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আজিজুর রহমান। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজ মোল্লা নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের গভীর নলকূপ বিতরণে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ইউপি সদস্যদের মতামত না নিয়ে, রেজুলেশন ও ডঅঞঝঅঘ কমিটির অনুমোদন ছাড়া সেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে তালিকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন। ইউপি সদস্য এ বি এম আতিকুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত সদস্যদের না জানিয়ে একক সিদ্ধান্তে এসব অনিয়ম করেছেন। এতে প্রকৃত উপকার ভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত তিনি মানছেন না। এ বিষয় তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য মোল্লা হারুন-অর-রশীদ এ প্রতিবেদককে জানান,চেয়ারম্যান একের পর এক নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে আসছেন। তিনি নির্বাচিত ইউপি সদস্যদের উপেক্ষা করে নিজেই তালিকা তৈরি করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন।আমরা চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিকারের দাবী জানিয়ে আসছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম বলেন, ইউপি সদস্যদের লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন, অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য ইতোপূর্বে সেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে চাল বিতরণ এর অনিয়মের অভিযোগে নিজ ইউনিয়নের সাত ৭ জন মেম্বর, চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজ মোল্লার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহনের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গতবছর ৬ এপ্রিল লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং গতবছর ১০ জুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রানের চাল আত্মসাৎ ও বিতরণের অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনরায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন, কমিটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায় এবং ইউনিয়নের সকল কার্যক্রমে ইউপি সদস্যদের সাথে সমন্বয়ের মধ্যমে সকল কাজ সম্পাদনের নির্দেশনা দেন।